0%

২০ বছর পর ফের দেশপ্রেমের গল্পে সিদ্ধার্থ, পুরনো ভুলের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ অভিনেতা

দেশপ্রেমের গল্পে সিদ্ধার্থের প্রত্যাবর্তন যেন এক অদ্ভুত সমাপতন। একদিকে ২০০৬ সালের ‘রং দে বাসন্তী’, অন্যদিকে প্রায় দুই দশক পর ‘অপারেশন সফেদ সাগর’। দুই ছবিতেই দেশপ্রেম রয়েছে, তবে দুই চরিত্রের যাত্রাপথ একেবারেই আলাদা। ‘রং দে বাসন্তী’-তে তিনি ছিলেন করণ সিংহানিয়া, আর নতুন প্রজেক্টে দেখা যাবে কার্গিল যুদ্ধের বীর অজয় আহুজার চরিত্রে। অভিনেতার কথায়, দেশপ্রেমকে পর্দায় নতুনভাবে তুলে ধরার সঙ্গে যেন তাঁর ভাগ্যেরই কোনও যোগ রয়েছে।

সিদ্ধার্থ বলেন, “২০ বছর আগে ‘রং দে বাসন্তী’-র জন্য আমাকে বলা হয়েছিল, আমি দেশপ্রেমকে কুল করে তুলেছি। আর ছবিটির ২০ বছর পূর্তির সময়ই অজয় আহুজার চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেলাম। মনে হয়, দেশপ্রেমকে কুল করে তোলার সঙ্গে আমার ভাগ্যের কোনও যোগ রয়েছে।”

তবে ‘রং দে বাসন্তী’-র কথা উঠলে করণ সিংহানিয়ার চেয়ে তাঁর মনে পড়ে ভগৎ সিংহের কথা। সিদ্ধার্থের কাছে ছবিটি ছিল সমকালীন সময়ের মধ্যে ভগৎ সিংহের আদর্শ ও আত্মত্যাগকে নতুন করে তুলে ধরার গল্প। অল্প বয়সে দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করা এক তরুণের সেই চেতনা তাঁকে এখনও নাড়া দেয়।

‘অপারেশন সফেদ সাগর’ (Operation Safed Sagar)-এ অবশ্য দেশপ্রেমের গল্পটি অন্যভাবে বলা হয়েছে। যুদ্ধবীরদের শুধু নায়ক বা প্রতীক হিসেবে দেখানোর বদলে তাঁদের ইউনিফর্মের আড়ালে থাকা মানুষটিকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। তরুণ বায়ুসেনা আধিকারিকদের স্বপ্ন, ভয়, সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, আনন্দ এবং যুদ্ধের সময় তাঁদের মানসিক অবস্থাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধার্থের মতে, এই মানবিক উপস্থাপনাই জেন-জির কাছে দেশপ্রেমকে আরও সহজে গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।

অভিনেতার বিশ্বাস,‘রং দে বাসন্তী’ যেমন একটি প্রজন্মকে নাড়া দিয়েছিল, তেমনই ‘অপারেশন সফেদ সাগর’ নতুন প্রজন্মকে বায়ুসেনায় যোগ দেওয়ার স্বপ্ন দেখাতে পারে। তাঁর কথায়, “যদি ‘রং দে বাসন্তী’ একটি প্রজন্মকে জাগিয়ে তোলার জন্য তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে ‘অপারেশন সফেদ সাগর’ একটি প্রজন্মকে আকাশের দিকে তাকাতে সাহায্য করবে।”

বর্তমান সময়ে সিনেমায় যে চড়া সুরের দেশপ্রেম বা উগ্র জাতীয়তাবাদের প্রবণতা দেখা যায়, তার থেকে ‘অপারেশন সফেদ সাগর’ অনেকটাই আলাদা বলেও মনে করেন সিদ্ধার্থ। তাঁর মতে, প্রতিরক্ষা বাহিনীর মূল ভিত্তি আসলে মানবিকতা, ভালোবাসা এবং মানুষকে বোঝার চেষ্টা। তাই ইতিহাসকে সঠিকভাবে এবং সংবেদনশীলতার সঙ্গে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি।

আরও পড়ুন: কঠিন লড়াই পেরিয়ে মা হলেন অনুষ্কা, ঘর আলো করে এল যমজ কন্যা

এই প্রসঙ্গে ‘রং দে বাসন্তী’ নিয়ে নিজের একটি আক্ষেপের কথাও জানিয়েছেন অভিনেতা। ছবিতে তাঁর চরিত্রকে ধূমপান করতে দেখা গিয়েছিল। সিদ্ধার্থের দাবি, সেই দৃশ্য দেখে বহু তরুণ হয়তো ধূমপানে প্রভাবিত হয়েছিলেন। সেই ভুলের জন্য মায়ের কথায় ক্ষমাও চাইতে হয়েছে তাঁকে। সিদ্ধার্থ বলেন, “একটি ছবির মাধ্যমে অন্য অনেকের তুলনায় আমি হয়তো বেশি তরুণকে ধূমপানের দিকে ঠেলে দিয়েছিলাম। তবে এখন আমি গর্বিত যে সেই প্রভাবকে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিতে পেরেছি।”

তাই ‘অপারেশন সফেদ সাগর’-এ এক যুদ্ধবীরের দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল চরিত্রে অভিনয়কে নিজের কাছে আরও বিশেষ বলে মনে করছেন অভিনেতা। তাঁর অভিনয় দেখে যদি কোনও তরুণ বায়ুসেনায় যোগ দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন, সেটাকেই দুই দশক আগের সেই ভুলের সবচেয়ে বড় প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে দেখবেন তিনি। আর এই কথাগুলি বলতে গিয়েই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সিদ্ধার্থ। তাঁর কথায়, “এর চেয়ে বড় সম্মান আর কিছু হতে পারে না।”

আরও পড়ুন: ‘সহজের কথাটা ভাবলি না?’, মৌমিতার পোস্ট ঘিরে বিস্ফোরক মানসী সিনহা

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker