‘এভাবে চলতে পারে না’, অবৈধ নির্মাণ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য হাই কোর্টের

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ তিলজলায় আগুন লাগার পর যে বহুতলকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছিল, সেই মামলাতেই এবার বড় মন্তব্য করল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। অভিযোগ, বহুতলটি বেআইনিভাবে তৈরি হয়েছিল এবং সেখানে নিয়ম না মেনেই কারখানা চলছিল। আগুন লাগার পর প্রশাসন বুলডোজার দিয়ে ভাঙার কাজ শুরু করে। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই আদালতের দ্বারস্থ হয় মালিকপক্ষ। শুক্রবার শুনানিতে শুধু ওই বহুতল নয়, গোটা কলকাতায় বেআইনি নির্মাণ বাড়তে থাকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে হাইকোর্ট।
বেআইনি নির্মাণ নিয়ে কড়া মন্তব্য হাই কোর্টের (Calcutta High Court)
শুক্রবার বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, আপাতত পরিস্থিতি যেমন আছে তেমনই থাকবে। তবে যে অংশ ইতিমধ্যে ভাঙা হয়েছে, সেখানে যদি বিপজ্জনক কোনও অংশ থেকে থাকে, তাহলে বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলে কলকাতা পুরসভা তা ভাঙতে পারবে। আইন মেনেই সব পদক্ষেপ নিতে হবে বলেও জানায় আদালত (Calcutta High Court)। শুনানির সময় বিচারপতি বলেন, “ব্যাঙের ছাতার মতো বেআইনি নির্মাণ বেড়েই চলেছে।” এই ধরনের নির্মাণ শহরের জন্য বিপজ্জনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আদালতে আরও উঠে আসে, ওই বহুতলের অনুমোদিত নকশা দেখাতে পারেনি মালিকপক্ষ।
গত ১২ মে তিলজলার ওই বহুতলে আগুন লাগে। জানা যায়, বহুতলের ভিতরে থাকা একটি কারখানায় প্রথমে আগুন ছড়ায়। ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু হয়। এরপর প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়, বহুতলটি বেআইনিভাবে তৈরি হয়েছিল। তারপরই বুলডোজার দিয়ে ভাঙার কাজ শুরু হয়। মামলাকারীদের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতে দাবি করেন, কোনও নোটিস না দিয়েই ভাঙার কাজ শুরু হয়েছিল। তাই মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত ভাঙা বন্ধ রাখার আবেদন জানান তিনি।
পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জল পরিষেবাও চালু করার আর্জি তোলা হয়। অন্যদিকে কলকাতা পুরসভার আইনজীবী জয়দীপ কর জানান, ওই কারখানার প্রয়োজনীয় দমকল বা পরিবেশ সংক্রান্ত কোনও লাইসেন্স ছিল না। এমনকি রাজ্যের অনুমতিও নেওয়া হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয় বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, পুরসভা শুধু ওই সম্পত্তির ব্যবহার বন্ধ করতে চাইছে।

আরও পড়ুনঃ আমূল বদলে যাবে বাংলার রেল মানচিত্র! দিঘা-তাজপুর সহ একাধিক প্রকল্পে অনুমোদন কেন্দ্রের
পুলিশের তরফে আদালতে (Calcutta High Court) বলা হয়, এখনও ওই বহুতলে কিছু মানুষ থাকছেন। তবে এরপরও কেউ সেখানে থাকলে, তার দায় তাঁদের নিজেদেরই নিতে হবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ২২ জুন।



