সভা চালাকালীনই মেজাজ হারালেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি! দলীয় কর্মীদের বললেন ‘অকর্মণ্য

সবদিক নিউজ:বেঙ্গালুরুতে কংগ্রেসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলীয় কর্মসূচি আচমকাই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এল দলের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের (Mallikarjun Kharge) ক্ষোভ প্রকাশকে ঘিরে। কর্নাটক কংগ্রেসের সাংগঠনিক দায়িত্ব হস্তান্তরের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় খাড়গের ভাষণের মাঝখানে বারবার মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের নামে স্লোগান দিতে শুরু করেন তাঁর সমর্থকেরা। সেই ঘটনায় প্রকাশ্য মঞ্চেই অসন্তোষ উগরে দেন কংগ্রেস সভাপতি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এটি কোনও ব্যক্তিবিশেষকে কেন্দ্র করে আয়োজিত অনুষ্ঠান নয়, বরং দলীয় কর্মসূচি। ফলে ব্যক্তিপূজার বদলে দলের আদর্শ ও সংগঠনের গুরুত্বকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সভা চালাকালীনই মেজাজ হারালেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Kharge)
রবিবার বেঙ্গালুরুতে আয়োজিত এই মহাসম্মেলন কংগ্রেসের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। ২০২০ সাল থেকে কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতির দায়িত্ব সামলানো ডি কে শিবকুমার এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে সেই দায়িত্ব বিকে হরিপ্রসাদের হাতে তুলে দেন। দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। দায়িত্ব হস্তান্তরের পর বক্তব্য রাখতে ওঠেন মল্লিকার্জুন খাড়গে। কিন্তু তাঁর ভাষণের মাঝপথেই একদল কর্মী ‘ডিকে, ডিকে’ স্লোগান দিতে শুরু করলে অনুষ্ঠানস্থলের পরিবেশ বদলে যায়। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে খাড়গেকে কয়েক মুহূর্তের জন্য নিজের বক্তব্য থামিয়ে দিতে হয়।
বাড়বে আরও শক্তি! ভারতের জন্য ৪,৫৬৬ কোটির সামরিক সহায়তা প্যাকেজের অনুমোদন ট্রাম্প সরকারের
ঘটনায় স্পষ্টতই বিরক্ত হয়ে কংগ্রেস সভাপতি কর্মীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, “এটি কোনও ব্যক্তির কর্মসূচি নয়, এটি দলের কর্মসূচি। এখানে কোনও ব্যক্তির পূজা করা হয় না। আমরা সবাই দল এবং তার আদর্শের জন্য একত্রিত হয়েছি।” খাড়গের বক্তব্যে ছিল দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রতিফলনও। তিনি মনে করিয়ে দেন, তাঁর প্রায় ৫৮ বছরের রাজনৈতিক জীবনে বহু নেতা এসেছেন এবং গিয়েছেন। অনেকেই দলের কাছে যতটা অবদান রেখেছেন, তার চেয়ে অনেক বেশি পেয়েছেন দলের কাছ থেকে। তাই কোনও ব্যক্তি নয়, সংগঠনই সর্বাগ্রে—এই বার্তাই তিনি দিতে চেয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলের মত।
শুধু অসন্তোষ প্রকাশেই থেমে থাকেননি খাড়গে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অনুষ্ঠানস্থলের সমস্ত ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে এবং সেগুলি খতিয়ে দেখা হবে। যাঁরা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন বলে প্রমাণিত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও তিনি জানান। তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, কংগ্রেস নেতৃত্ব শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনও আপস করতে রাজি নয়। বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন বিভিন্ন রাজ্যে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে, তখন দলীয় মঞ্চে ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্লোগানকে নেতৃত্ব ভাল চোখে দেখছে না।

সরকারি প্রকল্পে মিলবে বিনামূল্যে চিকিৎসা, আয়ুষ্মান তালিকায় নাম দেখার সহজ পদ্ধতি জানুন
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতারও একটি প্রতিচ্ছবি। কর্নাটকে ডি কে শিবকুমার অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা এবং তাঁর সমর্থক গোষ্ঠীও যথেষ্ট শক্তিশালী। তবে জাতীয় নেতৃত্ব চাইছে দলের সাংগঠনিক কাঠামো এবং সম্মিলিত নেতৃত্বের ভাবমূর্তিই সামনে আসুক। বেঙ্গালুরুর এই ঘটনা তাই শুধুমাত্র একটি স্লোগান বিতর্ক নয়, বরং দলীয় শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের ভারসাম্য এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে (Mallikarjun Kharge)।




