0%

‘চোর’ থেকে বাঁচতে ‘ডাকাতে’র কবলে! নজরদারির ভয়ে হোয়াটসঅ্যাপ ছেড়ে চিনা উইচ্যাটে ভরসা পাক সেনার

হোয়াটসঅ্যাপে চলছে নজরদারি! ফাঁস হতে পারে তথ্য, গোপন পরিকল্পনা। এমনই আশঙ্কায় মেটার অধীনস্থ অ্যাপ ছাড়ার নির্দেশ পাক সেনা জওয়ানদের। পাকিস্তানের সেনার (Pakistan Army) তরফে জানানো হয়েছে, ওই অ্যাপ আর ব্যবহার না করাই ভালো। বরং চিনা মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম উইচ্যাটেই এবার ভরসা রাখুক জওয়ানরা। প্রশ্ন, উঠছে উইচ্যাটই কেন?

বলে রাখা ভালো, উইচ্যাট হল বৃহত্তম ‘সুপার অ্যাপ’। এখানে মেসেজিং ছাড়াও আরও নানা সুবিধা রয়েছে। অর্থাৎ টেক্সট চ্যাট ছাড়াও ভয়েস ও ভিডিও কল, ফাইল শেয়ারিং, ডিজিটাল লেনদেনের মতো নানা সুবিধা এই অ্যাপকে ‘অল-ইন-ওয়ান’ করে তুলেছে। এদিকে, এই অ্যাপ এদেশে নিষিদ্ধ। ২০২০ সালের জুনে গালওয়ান সংঘর্ষের পর ৫৯টি চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করে দেয় মোদি সরকার। এর মধ্যে ছিল উইচ্যাটও। ‘জাতীয় নিরাপত্তার পরিপন্থী’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল একে। সেই ‘বিতর্কিত’ অ্যাপকেই এবার ভরসা করছে পাকিস্তান। আসলে চিন ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত অংশীদারি ক্রমশ গভীর হয়েছে। একসময় কেবল সামরিক সরঞ্জামের আদানপ্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও, আজ সাইবার নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও হাত ধরাধরি করে চলছে বেজিং ও ইসলামাবাদ। একই যোগাযোগ ব্যবস্থা বা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ফলে সীমান্ত বিষয়ক আলোচনা, যৌথ সামরিক মহড়া এবং অন্যান্য যৌথ কার্যক্রম পরিচালনার সময় উভয় দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও সহজ ও সুষ্ঠু হতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

আরও পড়ুন:

তবে… একটা ‘কিন্তু’ থেকেই যায়। পাকিস্তানকে ‘সব আবহাওয়ার বন্ধু’ বলে দাবি করে চিন। অথচ গত মাসেই আমেরিকার সাইবার তদন্তকারী গোয়েন্দা সংস্থা ‘সেন্টিনেল ল্যাবস’ দাবি করে, চিনা দুষ্কৃতীরা বেলুচিস্তান, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং ইসলামাবাদের পুলিশ বাহিনীর ডিজিটাল পরিকাঠানোয় নজরদারি চালাচ্ছে। অর্থাৎ ‘বন্ধু’কেও রেয়াত করছে না তারা। এই পরিস্থিতিতে চিনা অ্যাপকে এতটা ভরসা করলে তার খেসারত পাক সেনাকে দিতে হবে না তো? প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

শেয়ার

লিংক

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker