Students broke down in tears upon hearing the news of their beloved teacher’s transfer in Bardhaman

‘হাতেখড়ি’ তাঁর হাতেই। প্রতিদিন নতুন শিক্ষার পাঠ দেন তিনি। স্কুলকে নিজের হাতে সাজিয়ে তুলেছেন। পড়ুয়াদের খুঁটিনাটি সব বিষয়ে খেয়াল রাখেন। সেই প্রিয় শিক্ষকের বদলির খবর পেতেই কান্নায় ভেঙে পড়ল পড়ুয়ারা। স্কুলে ছুটে এলেন অভিভাবকরাও। তাঁরা কিছুতেই যেতে দেবেন না শিক্ষক সন্দীপ কর্মকারকে। একসঙ্গে জড়ো হয়ে পড়ুয়ারা স্লোগান দিতে থাকে, “শিরায় শিরায় রক্ত, সন্দীপ স্যরের ভক্ত।” সম্প্রতি এমনই আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল পশ্চিম বর্ধমান জেলার অন্ডালের শ্রীরামপুর অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়।
পড়ুয়াদের মধ্যে কেউ পড়ে প্রথম শ্রেণিতে, কেউ দ্বিতীয় শ্রেণিতে আবার কেউ পড়ে তৃতীয় শ্রেণিতে। কিন্তু তাদের প্রত্যেকেরই পছন্দের শিক্ষক সন্দীপ স্যর। গত ১৫ বছর অন্ডালের শ্রীরামপুর অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। বিদ্যালয়ে শিক্ষক কম থাকায় তিনি প্রায় সব বিষয়েই পড়ান। শুধুমাত্র পড়ুয়া নয়, অভিভাবকদের কাছেও সন্দীপ স্যর খুব জনপ্রিয়। তাঁদের কাছেও পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেন তিনি। কোনও পড়ুয়া পড়াশোনায় দুর্বল হলে তাকে আলাদা করে সময় দিতেন সন্দীপ স্যর। কেউ স্কুলে না এলে তার বাড়িতে গিয়েও খোঁজ নিতেন। শুধু পড়াশোনার মানোন্নয়নই নয় পড়ুয়াদের মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রেই তাঁর অবদান ছিল। গ্রামের সকলেই তাঁকে খুব পছন্দ করেন। গ্রামের ভবিষ্যৎ তৈরির কারিগরকে এভাবে স্কুল থেকে বদলির খবরে মন খারাপ এলাকাবাসীর। পড়ুয়ারাও স্যরকে জড়িতে ধরে বলছে, “আমাদের ছেড়ে যাবেন না স্যর।” আবার অনেক পড়ুয়া মন খারাপে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠছে।
আজ, বুধবার সন্দীপ কর্মকারের বদলি হওয়ার কথা। তার আগে মঙ্গলবার এই খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্কুলে ছুটে আসেন অভিভাবক ও পড়ুয়ারা। কিছুতেই স্যরকে বদলি করা যাবে না। সন্দীপ স্যরকে আটকাতে স্কুলের গেটও বন্ধ করে দেওয়া হয়। খুদে পড়ুয়াদের একটাই অনুরোধ, তাদের প্রিয় স্যর যেন তাদের ছেড়ে চলে না যান।
শেয়ার
লিংক



