0%

সিএবি অপবাদের নিঃশব্দ জবাব! নিজের পুরস্কারের ২ লক্ষ টাকা মালিদের দিলেন ইডেন কিউরেটর

ইডেন কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায় চরিত্র হিসেবে নিঃসন্দেহে অদ্বিতীয়। ময়দানি জনশ্রুতি হল, পেশাদার সুজন অত্যন্ত একরোখা। ইডেন পিচের ব্যাপারে সম্পূর্ণ আপসহীন। কতটা, তা সবচেয়ে ভালো বলতে পারবেন কেকেআর সিইও ভেঙ্কি মাইসোর। কিন্তু ব্যক্তি মুখুজ্জ্যেমশাই, পুরোপুরি আলাদা। ময়দানের মালিরাই বলাবলি করেন যে, তাঁদের হর্ষ-বিষাদে বিপদে-আপদে একজনকে সর্বক্ষেত্রে পাওয়া যায়-সুজনবাবুকে। কেউ কেউ রসিকতা করে আবার বলেন, ইডেন কিউরেটর মানুষট আদতে নারকোলের মতো। বাইরে প্রবল পোক্ত। কিন্তু ভেতরটা তার নরম শাঁসের মতো। তবে হ্যাঁ, প্রকৃত ‘ম্যান অফ প্রিন্সিপল’ বটে।

তা এহেন, কঠোর আদর্শে বিশ্বাসী এক চরিত্র সিএবি-র ‘নির্দেশানুসারে’ চলবেন, ভাবাটাই বোধহয় অন্যায়। সম্প্রতি আইপিএল পুরস্কার অর্থের ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে বঙ্গ ক্রিকেট প্রশাসনে ভালো রকম ‘মতান্তর’ দেখা দিয়েছিল। লিখে রাখা যাক, আইপিএলে ইডেন শ্রেষ্ঠ মাঠের পুরস্কার হিসেবে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা পেয়েছিল মাস দু’য়েক আগে। সিএবি ঠিক করে, দু’টো ভাগে বিভক্ত করা হবে পুরস্কার অর্থ। চল্লিশ শতাংশ দেওয়া হবে সংস্থার অফিস স্টাফদের। সমান ভাগে। বাকি ষাট শতাংশ ধার্য করা হয় মাঠকর্মীদের জন্য। যে অর্থেরও সমান ভাগ হবে। তবে শুধু ইডেন নয়, সিএবি অধীনস্থ সমস্ত মাঠের মালিদের মধ্যে।

যা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। শোনা যায়, ইডেন কিউরেটর সুজন নাকি প্রস্তাব দিয়েছিলেন, বাকি মাঠের মালিরাও অর্থ পাক। কিন্তু ‘টোকেন’ অর্থ পাক। আর পুরষ্কার অর্থের সিংহভাগ পাক ইডেনের মাঠকর্মীরা। যাঁরা আইপিএলের সময় মাঠ তৈরি করলেন। রোদ-ঝড়-জল উপেক্ষা করে, নিত্য সকাল সাতটা থেকে রাত দু’টো পর্যন্ত পড়ে থেকে। ইডেন কিউরেটরের সহজ যুক্তি ছিল-সবচেয়ে বেশি খাটাখাটনি করল যারা, তারা কেন বাকিদের সমন অর্থ পাবে? অতীতেও তো তাই হয়েছে। কিন্তু সিএবির কোনও কোনও ‘মেজ কর্তা’ সে যুক্তি মানতে চাননি। পাল্টা যুক্তি ছিল, পুরস্কার অর্থ সমান বাঁটোয়ারা করাই দস্তুর। উল্টে ‘সযত্নে’ রটিয়ে দেওয়া হয়, সুজন নিজেই নাকি নিজের জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা ‘সুপারিশ করেছেন পুরস্কার অর্থ থেকে। পরে সিএবি বৈঠক করে। এবং মালিদের মধ্যে সম-বণ্টন নীতিই অনুসরণ করে। যার প্রত্যুত্তর বুধবার দিলেন ইডেনের মুখুজ্যেমশাই। নিঃশব্দে। নিজের পুরস্কার অর্থ থেকে দু’লক্ষ টাকা ইডেনের মাঠকর্মীদের মধ্যে বন্টন করে দিয়ে।

শোনা গেল, এ দিন সুজনকে বাড়তি অর্থ দিতে দেখে অভিভূত হয়ে যান ইডেন মাঠকর্মীরা। ইডেন কিউরেটরকে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি। কিন্তু তাতে কী? ইডেনের মালিরাই তো যা বলার, বলে দিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইডেন মাঠকর্মী বলছিলেন, ‘সুজনবাবু আমাদের প্রত্যেককে দশ হাজার টাকা করে আলাদা দিয়ে দিলেন। নিজের থেকে। ক’জন করে এমন? ইডেনে মোট ষোলো জন মাঠকর্মী কাজ করেন। সঙ্গে চার জন সহকারি কিউরেটর। শুনলাম প্রত্যেককে নিজের পুরস্কার অংশ থেকে দশ হাজার টাকা করে দিয়ে দিয়েছেন সুজন। সর্বমোট দু’লক্ষ টাকা।

স্থানীয় ক্রিকেটমহলের কেউ কেউ যার পর বলছিলেন যে, বর্তমান সিএবি প্রশাসনে এখন সবাই ‘বড় কর্তা’। সবাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ‘মালিক’। আর সেটাই মূল সমস্যা। মানুষ বুঝে কথা বলা উচিত। সুজন আজকের লোক নন। বহু দিন যাবৎ বঙ্গ ক্রিকেট ও ক্রিকেট প্রশাসনের সঙ্গে ওতঃপ্রোত ভাবে জড়িয়ে। তাঁকে নিয়ে কি না দুম করে বলে দেওয়া হল, সুজন নিজে পাঁচ লক্ষ টাকা চেয়েছেন। অনেকে বললেন, খোঁজ নিলে দেখা যাবে, মালিদের জন্য নিজের পকেট থেকে এ যাবৎ সাত-আট লক্ষ টাকা খরচ করেছেন সুজন। কারও ছেলের পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন। কারও বা কন্যার বিয়ের। সেই লোক কখনও নিজের জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা ‘সুপারিশ’ করবেন?

ওয়াকিবহাল মহল বলছে, সুজন নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে দু’লক্ষ টাকা তুলে ইডেন মাঠকর্মীদের মধ্যে বাঁটোয়ারা করে দিয়ে পরোক্ষে দু’টো কাজ করে দিলেন। এক) ইডেন কিউরেটর বুঝিয়ে দিলেন, পাঁচ লক্ষ টাকার জন্য তিনি ‘লালায়িত’ ছিলেন না। নইলে অনায়াসে নিজের থেকে দু’লক্ষ টাকা তিনি দিয়ে দিতেন না। দুই) ইডেন কিউরেটর দিন শেষে নিজের দর্শনকেই জিতিয়ে দিলেন। সুজন চেয়েছিলেন, ইডেনের মাঠকর্মীর বাকি মাঠের মালিদের চেয়ে পুরস্কার অর্থ বেশি পাক। শেষ পর্যন্ত তাই হল। ইডেনের মালিরা দশ হাজার টাকা করে বেশি পেলেন বাকিদের চেয়ে। কিউরেটর নিজে যা দিলেন। মহাশয়, এরপর অনুধাবন করা গেল, চরিত্র হিসেবে ইডেনের মুখুজ্জোমশাই কেন অদ্বিতীয়?

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker