এবার কি মমতার হাত ছাড়ছেন রাজীব কুমারও? দিল্লিতে কাকলির পাশে দেখে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

AK Bangla Desk: রাজ্য রাজনীতিতে নির্বাচন-পরবর্তী জট যেন কাটার নামই নিচ্ছে না। তৃণমূলের ভরাডুবি এবং দল ভাঙনের পর দিনের পর দিন যেন ক্রমশ একলা হয়ে পড়ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল আরও এক হেভিওয়েট নাম। তৃণমূল নেত্রীর অত্যন্ত আস্থাভাজন তথা প্রবীণ প্রাক্তন আইপিএস কর্তা রাজীব কুমারের দলত্যাগের জল্পনা এখন তুঙ্গে। এতদিন ধরে কালীঘাট চত্বরের অন্যতম বিশ্বস্ত মুখ হিসেবে পরিচিত থাকলেও, সাম্প্রতিক এক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছে।
দিল্লির বৈঠকে রাজীব-কাকলি যুগলবন্দি
সম্প্রতি রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করতে বাংলার সাংসদদের বিশেষ বৈঠকে ডেকেছিলেন কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাতিল। সেই বৈঠকে অন্যান্য সাংসদদের পাশাপাশি হঠাৎই উপস্থিত হতে দেখা যায় রাজীব কুমারকে। কিন্তু নজর কাড়ে অন্য এক দৃশ্য। বৈঠক চত্বরে তৃণমূলত্যাগী এনসিপিআই (NCPI) সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ভঙ্গিতে আলাপচারিতায় মগ্ন ছিলেন তিনি। এমনকি কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পোস্ট করা একাধিক ছবিতেও স্পষ্ট দেখা গিয়েছেন রাজীবকে। এই ছবি প্রকাশ্যে আসার পরেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে, তবে কি এনসিপিআই-এর পথ ধরেই মমতার হাত ছাড়তে চলেছেন এই প্রাক্তন পুলিশকর্তা?
একসময় যাঁর জন্য ধরণায় বসেছিলেন মমতা
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সারদা চিটফান্ড মামলার তদন্তে তৎকালীন কলকাতা পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাসভবনে হানা দিয়েছিল সিবিআই। সেই ঘটনার প্রতিবাদে এবং রাজীবকে আড়াল করতে তৎকালীন কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করে ধর্নায় বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার ইতিহাসে কোনও শীর্ষ পুলিশকর্তার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর এভাবে ধর্নায় বসার ঘটনা নজিরবিহীন ছিল।
গত বছর আইপিএস পদ থেকে অবসর গ্রহণের পর চলতি বছরেই রাজীব কুমারকে রাজ্যসভার টিকিট দিয়ে সাংসদ হিসেবে দিল্লিতে পাঠিয়েছিলেন মমতা। তবে নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয় এবং দল বিভাজনের পর থেকেই রাজীবের উপস্থিতিতে ভাটা পড়েছিল। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অধিকাংশ বিধায়ক ও সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে বেরিয়ে আসার পর এমনিতেই প্রতীক ও ফান্ড হাতছাড়ার শঙ্কায় রয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। এমন সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে রাজীবের এই রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিছক কাকতালীয় নাকি দলবদলের বার্তা, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা রাজ্য রাজনীতিতে।



