0%

লিভ-ইন সম্পর্কেও গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগে মিলবে বিবাহিত নারীর সমান অধিকার, রায় সুপ্রিম কোর্টের – সবদিক

ভারতীয় সমাজের পরিবর্তিত বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করেছে, বিবাহের মতো দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা মহিলারাও গার্হস্থ্য হিংসার ঘটনায় বিবাহিত নারীদের মতোই আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী। ফলে শুধুমাত্র বৈবাহিক সম্পর্ক নয়, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা লিভ-ইন সম্পর্কেও নারীর নিরাপত্তা ও অধিকারকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সময়ের সঙ্গে সমাজ যেমন বদলেছে, তেমনই বদলেছে সম্পর্কের সংজ্ঞাও। বর্তমান প্রজন্মের একাংশ বিয়ের পরিবর্তে লিভ-ইন সম্পর্ককে বেছে নিচ্ছেন। পারস্পরিক বোঝাপড়া, স্বাধীনতা এবং ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একসঙ্গে থাকার সুযোগ—এই কারণগুলিই লিভ-ইন সম্পর্কের জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। তবে এই সম্পর্কেও যে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটতে পারে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

– বিজ্ঞাপন –

এই বাস্তবতাকেই গুরুত্ব দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ‘ম্যারেজ ইন দ্য নেচার অফ ম্যারেজ’ অর্থাৎ বিবাহের মতো বৈশিষ্ট্যযুক্ত লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা মহিলাদের ক্ষেত্রেও গার্হস্থ্য হিংসা সংক্রান্ত আইনি সুরক্ষা প্রযোজ্য হবে। আদালতের মতে, সম্পর্কের আইনি পরিচয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল সেই সম্পর্কে থাকা ব্যক্তির নিরাপত্তা ও মর্যাদা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায়ের মূল তাৎপর্য হল—নারীর অধিকারকে কেবল বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব সামাজিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিচার করা। কারণ একটি দীর্ঘমেয়াদি লিভ-ইন সম্পর্কেও পারস্পরিক দায়বদ্ধতা, অর্থনৈতিক নির্ভরতা এবং মানসিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্কের মধ্যে যদি নির্যাতন ঘটে, তাহলে আক্রান্ত মহিলাকে আইনের সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করা যায় না।

তবে আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আদালতের এই অবস্থান যেমন নারীর নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে, তেমনই আইনের অপব্যবহার রোধেও সমান সতর্কতা প্রয়োজন। প্রত্যেকটি অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রমাণ, সম্পর্কের প্রকৃতি এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিচার করেই আইন প্রয়োগ করতে হবে।

বিশ্বের বহু দেশ, বিশেষ করে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশে লিভ-ইন সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য। ভারতে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এখনও সর্বত্র সমান না হলেও, আদালতের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে আইনের চোখে একজন নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা তাঁর বৈবাহিক অবস্থার উপর নির্ভর করতে পারে না।

বিজ্ঞাপন

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় কেবল একটি মামলার নিষ্পত্তি নয়, বরং পরিবর্তিত সমাজব্যবস্থার সঙ্গে আইনকে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা মহিলাদের অধিকার সংক্রান্ত আইনি ব্যাখ্যাতেও এই রায় গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker