0%

বাড়িওয়ালা কি ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়াতে পারেন? গুরুত্বপূর্ণ রায় হাইকোর্টের

বাংলা হান্ট ডেস্ক : ভাড়াবাড়ি বা দোকান নেওয়ার ক্ষেত্রে লিখিত চুক্তি এখন প্রায় বাধ্যতামূলক প্রথা। এবার বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল হাইকোর্ট (High Court)। সেই চুক্তিতেই সাধারণত ভাড়ার পরিমাণ, মেয়াদ, নিরাপত্তা আমানত এবং ভবিষ্যতে ভাড়া বৃদ্ধির শর্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর কি আগের ভাড়াই বহাল থাকবে, নাকি বাড়িওয়ালা বাড়তি ভাড়া দাবি করতে পারবেন? এই প্রশ্নেরই গুরুত্বপূর্ণ আইনি ব্যাখ্যা দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট।

কী জানাল দিল্লি হাইকোর্ট (High Court) ?

সম্প্রতি একটি ভাড়াসংক্রান্ত মামলার শুনানিতে আদালত জানিয়েছে, চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও ভাড়াটিয়া যদি সম্পত্তির দখল বজায় রাখেন, তাহলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তাঁকে বর্ধিত ভাড়া দিতে হতে পারে। তবে তার জন্য ভাড়াচুক্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাড়া বৃদ্ধির ধারা আগে থেকেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।

শুধু বাড়ি বা দোকান খালি করার জন্য অতিরিক্ত সময় চাওয়া হয়েছে বলেই পুরনো ভাড়ায় থাকার অধিকার তৈরি হয় না বলেও আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে। এই রায় ভবিষ্যতে আবাসিক ও বাণিজ্যিক-দুই ধরনের ভাড়াসংক্রান্ত মামলাতেই গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সম্পত্তি খালি করতে কিছুটা সময় চাওয়া নিয়ে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে বিরোধ নতুন নয়। সেই পরিস্থিতিতে চুক্তির শর্ত কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েই আদালতের এই পর্যবেক্ষণ।

এই মামলার সূত্রপাত, দিল্লির এক বাড়িওয়ালা ও তাঁর ভাড়াটিয়াকে নিয়ে। অভিযোগ উঠেছিল, চুক্তির নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পরও ভাড়াটিয়ারা প্রায় দু’মাস ওই সম্পত্তি নিজেদের দখলে রেখেছিলেন। ভাড়াচুক্তিতে উল্লেখ ছিল, এক বছর পূর্ণ হলে ভাড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু ভাড়াটিয়াদের দাবি ছিল, ব্যবসার জিনিসপত্র সরানো এবং জায়গাটি সম্পূর্ণ খালি করতে অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হওয়ায় তাঁরা কিছুদিন সেখানে ছিলেন। সেই কারণ দেখিয়ে তাঁরা বর্ধিত ভাড়া প্রযোজ্য নয় বলেই আদালতে যুক্তি দেন। আদালত অবশ্য সেই দাবি গ্রহণ করেনি। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, যেহেতু ভাড়াচুক্তিতেই আগাম ভাড়া বৃদ্ধির শর্তে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছিলেন, তাই নির্ধারিত সময় অতিক্রম করে সম্পত্তি ব্যবহার করলে সংশোধিত ভাড়ার শর্তই কার্যকর হবে।

এই মামলায় আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই রায়ের অর্থ বাড়িওয়ালাদের হাতে সীমাহীন ক্ষমতা তুলে দেওয়া নয়। ভাড়াটিয়াকে জোর করে উচ্ছেদ করা, তালা বদলে দেওয়া কিংবা বিদ্যুৎ ও জলের মতো অত্যাবশ্যক পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার কোনও অধিকার তাঁদের নেই। ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তিতে বাড়িওয়ালাদের আইনসম্মত পথই অনুসরণ করতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে বাড়িওয়ালারা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আবেদন করতে পারেন।

আরও পড়ুন : প্রতি মাসে ন্যূনতম ৯,০০০ টাকা হবে পরিবহন ভাতা? কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের প্রস্তাব

দিল্লি হাইকোর্টের এই রায়ে স্পষ্ট হয়েছে, ভাড়াচুক্তির প্রতিটি শর্তের আইনি গুরুত্ব রয়েছে। তাই চুক্তিতে যদি স্বয়ংক্রিয় ভাড়া বৃদ্ধির বিধান থাকে, তাহলে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময় সম্পত্তি ব্যবহার করলে সেই শর্ত কার্যকর হবে। একইসঙ্গে আদালত এটাও মনে করিয়ে দিয়েছে, বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া—উভয় পক্ষকেই নিজেদের অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে আইনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনেই এগোতে হবে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker