স্কুল চলাকালীন নয়, এই সময়ই করতে হবে সেন্সাসের কাজ! শিক্ষকদের জন্য নতুন নিয়ম

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যে ২০২৭ সালের জনগণনার প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে। সেই কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে সরকারি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের (Teachers) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আগেই। তবে এবার শিক্ষা দফতর স্পষ্ট করে দিল, জনগণনার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যাতে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সেজন্য স্কুল চলাকালীন সময়ে এই কাজ করা যাবে না। সম্প্রতি জারি হওয়া নতুন নির্দেশিকায় শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের সময়সীমা নিয়েও বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
জনগণনায় শিক্ষকদের (Teachers) জন্য নতুন নির্দেশিকা
শিক্ষা দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের নিয়মিত ক্লাস চলাকালীন জনগণনার কোনও কাজ করা যাবে না। শিক্ষকদের এই দায়িত্ব পালন করতে হবে স্কুল ছুটির পর অথবা ছুটির দিনে। প্রয়োজন হলে সপ্তাহান্তেও জনগণনার কাজে অংশ নিতে হবে। প্রশাসনের মতে, শিক্ষার পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি জনগণনার কাজও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।
দেশজুড়ে জনগণনার প্রাথমিক ধাপ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। বর্তমানে নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের তথ্য নথিভুক্ত করার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। নির্ধারিত পদ্ধতিতে বাড়িতে বসেই ফর্ম পূরণ করে তথ্য জমা দেওয়া যাবে। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে শুরু হবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ। সেই পর্যায়ে তথ্য যাচাই ও সংগ্রহের দায়িত্বে থাকবেন নিযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অন্যান্য সরকারি কর্মীরা। এর আগে শিক্ষা দফতর সংশ্লিষ্ট সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো নির্দেশে জনগণনার কাজে শিক্ষকদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক বলে জানিয়ে দেয়।
শুধু শিক্ষকই নন, সহকারী শিক্ষক এবং স্কুলের দপ্তর কর্মীদেরও এই দায়িত্ব পালন করতে হবে। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, শিক্ষকরা জনগণনার দায়িত্ব পালন করতে অস্বীকার করলে সেন্সাস অ্যাক্ট, ১৯৪৮ অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি, দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা জরিমানা এবং সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

আরও পড়ুন : ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত তৈরি বাড়ি নিয়ে নতুন নিয়ম, জানালেন অগ্নিমিত্রা
জনগণনার মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন যেমন সরকারি কর্মীদের সহযোগিতা চাইছে, তেমনই শিক্ষাক্ষেত্রের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নতুন নির্দেশিকার ফলে ক্লাসরুমের পড়াশোনা এবং জনগণনার কাজ—দুই ক্ষেত্রেই ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছে শিক্ষা দফতর।




