বাঁকিপুরে বাজিমাত পিকের! নীতিন নবীনের ছেড়ে যাওয়া আসনে বিরাট জয়ের পথে প্রশান্ত কিশোর

AK Bangla Desk: প্রথম বার সরাসরি নির্বাচনী ময়দানে নেমেই চমক দিলেন জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তথা প্রখ্যাত ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর। বিহারের হাই-প্রোফাইল বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনের ছেড়ে যাওয়া আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ের পথে পিকে। নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, সপ্তম দফার ভোট গণনা শেষে জন সুরাজ পার্টির প্রার্থী প্রশান্ত কিশোর পেয়েছেন ১৩,৫০০টি ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির নীরজ কুমার সিনহা পেয়েছেন ৯,৬৮৯টি ভোট। সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি ভোটে পিছিয়ে পড়া বিজেপির জন্য যা বড় ধাক্কা। অন্যদিকে, আরজেডি প্রার্থী রেখা গুপ্তা মাত্র ২,৫৯৯টি ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে পিছিয়ে পড়েছেন। বর্তমান ট্রেন্ড অনুযায়ী, বাঁকিপুর থেকে প্রশান্ত কিশোরের জয় এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর বিজেপির হেভিওয়েট নেতা নীতীন নবীন বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। ফলে বাঁকিপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচনের প্রয়োজন পড়ে এবং গত ৩০ জুলাই সেখানে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এই কেন্দ্রে প্রার্থী নির্বাচন ঘিরেও তীব্র নাটকীয়তা দেখা গিয়েছিল। মনোনয়ন জমা দেওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিষেক বান্টিকে সরিয়ে নীরজ কুমার সিনহাকে টিকিট দিয়েছিল বিজেপি নেতৃত্ব। তবে শেষ মুহূর্তে প্রার্থী পরিবর্তন করেও গেরুয়া শিবির যে বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি, গণনার পরিসংখ্যানই তার বড় প্রমাণ।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিহারের বাঁকিপুর কেন্দ্রটি দীর্ঘ দিন ধরেই বিজেপির ‘অধীনস্থ দুর্গ’ হিসেবে বিবেচিত হতো। অতীতে এটি পাটনা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্র নামে পরিচিত ছিল। নীতীন নবীনের বাবা কিশোর প্রসাদ সিনহা ১৯৯৫ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বহু বার এই কেন্দ্রের বিধায়ক নির্বাচিত হন। তাঁর প্রয়াণের পর ২০০৬ সালের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে রাজনৈতিক ইনিংস শুরু করেন নীতীন। তার পর থেকে বাঁকিপুর আসন ও নীতীন নবীন ছিলেন সমার্থক। এমন শক্ত ঘাটি ধরে রাখা বিজেপির জন্য ছিল মর্যাদার লড়াই। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের তথ্য স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বিজেপির সেই দুর্ভেদ্য রাজনৈতিক ঘাঁটিতে বড়সড় ফাটল ধরিয়ে প্রথম আসর জয়ের দৌড়ে ইতিহাস গড়ছেন প্রশান্ত কিশোর।



