‘বামপন্থীরা আসলে সিউডো সেকুলার!’ তসলিমা থেকে টুলু মন্ডলদের নিয়ে বিস্ফোরক সুকান্ত মজুমদার

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বিগত কয়েক দিনে একেরপর এক ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে অন্যতম একটি হল তসলিমা নারসিন পশ্চিমবঙ্গে ফিরেছেন। এদিন এই সমস্ত বিষয় নিয়েই সাংবাদিকদের সামনে হাজির হয়েছিলেন সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumder)। বামপন্থীদের সিউডো সেকুলারিজম থেকে টুলু মন্ডল প্রসঙ্গে কি জানালেন তিনি? চলুন দেখে নেওয়া যাক।
বামপন্থীদের সাম্প্রদায়িক মানসিকতার জন্যই দেশ ছেড়েছিলেন তসলিমা নারসিন
শুরুতেই তিনি জানান, তসলিমা নারসিনকে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়তে হয়েছিল কিছু সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে খুশি করার জন্য। তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার যারা নিজেদের সো কলড প্রগতিশীল ভাবেন বা দাবি করেন তাদের এই অ্যাপিসমেন্ট পলিসির জন্য বা সাম্প্রদায়িক মানসিকতাকে জল দেওয়ার জন্য তসলিমা নারসিনকে বিতাড়িত করেছিল। এরপর পনেরো বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার থাকতেও তাকে ফেরত আসতে দেওয়া হয়নি। বামফ্রন্ট যে রাজনীতিতে বিশ্বাস করত সেই একই পলিটিক্সে বিশ্বাস করত মমতা। বিজেপি সরকার গঠন হয়েছে, আমাদের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সকলের বাক স্বাধীনতা থাকা উচিত। তাছাড়া কোনো সাহিত্য কর্মের জন্য একদিকে কেউ অ্যাওয়ার্ড পাবে আরেকজনকে ঘরছাড়া হতে হবে, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া হতে হবে এটা তো হতে পারে না। তাই আমাদের সরকার তাকে সুরক্ষা দিয়েছে, উনি আসতে পারেন, বই প্রকাশ করতে পারেন মত প্রকাশ করতে পারেন।
এরপর তিনি জানান, প্রথম কথা হচ্ছে, নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব কার? রাজ্য সরকারের। তার মানে কি তখন রাজ্য সরকার অপদার্থ হয়ে গিয়েছিল? আমি ধরে নিলাম উনি বৈদেশিক নাগরিক, তাঁকে সরাতে হল? তাহলে আগামী দিনে তো সরকার সাধারণ নাগরিককেও সরাতেই পারে। তখন এটা বলবে যে তার সুরক্ষাটা প্রয়োজন। নাগরিক হোক বা বৈদেশিক নাগরিক হোক, যাকে ভারত সরকার ভিসা দিয়েছে তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। আগের সরকার সেটা পারেনি, আমাদের সরকার সেটা পারছে। এই অপদার্থতাটা তো অন্ততপক্ষে মেনে নিক।
আরও পড়ুনঃ ২০২৫ এর আগে ভারতে এলেই হবে! ৫৯৬৬ জনকে নাগরিকত্ব প্রদান করে বড় বার্তা শুভেন্দুর
তাছাড়া, বামপন্থীরা আদপে কেউই সেকুলার নয়, সিউডোসেকুলার। তাদের সেকুলারিজম হল অদ্ভুত ধরণের, পার্টি অফিসের বাইরে আপনি নামাজ পড়তে পারবেন কিন্তু সরস্বতী পুজো করতে পারবেন না। এই একপেশে সেকুলারিজমকে আমরা ছদ্ম ধর্মনিরপেক্ষতা বলি। আদতে বামপন্থীরা বরাবরই ইসলাম তোষণ করে গেছে, ইতিহাসে এর বহু নিদর্শন আছে। দেশভাগের সময় তাঁরা পাকিস্তান তৈরির দাবিকে সমর্থন করেছিলেন। বলেছিলেন পাকিস্তানের দাবি মানতে হবে তবেই দেশ স্বাধীন হবে। যাঁরা এই মানসিকতার লোক তাদের থেকে এই চেয়ে বেশি কি আর আশা করা যায়?
টুলু মন্ডলদের মত লোকেদের গোড়া অবধি তদন্ত হবে
এখানেই শেষ নয়, তিনি আরও জানান, রাজ্য সরকার তদন্ত শুরু করেছে ও এর গোড়া অবধি যাবে। যারা ভারতকে টুকরো করতে চায় এমন কোনো অপরাধীকে ছাড়া হবে না। একইসাথে টুলু মন্ডল প্রসঙ্গে তিনি জানান, আপনাদের মনে আছে কি নেই জানা নেই। মাননীয় অমিত শাহজী বীরভূমের সভায় এসেছিলেন সেই সময় আমি বলেছিলাম ও চেষ্টা করেছিলাম এইসব বন্ধ করার জন্য। তখন আমরা ক্ষমতায় ছিলাম না তাই কিছু করতে পারিনি। এখন আমরা ক্ষমতায় আছি, তাই রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই ধরণের যারা দিনে দুপুরে বড়লোক হয়েছে মানুষের পেটের টাকা কেটে তাদের কাউকে ছাড়া হবে না।
এই প্রসঙ্গে পাথর খাদানের কথা তুলে তিনি বলেন, আগে বছরে যত টাকা রেভিনিউ (আয়) হিসাবে উঠে আসত সেই একই পরিমাণ টাকা আমাদের সরকারের সময়ে মাসে আসছে। অর্থাৎ জনগণের পকেটে যাচ্ছে। আমি বলব কোনো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার কোনো জায়গায় নেই। তার কারণ এটা নির্ভর করছে সরকারের উপরে। সরকার যদি কড়া হাতে দাঙ্গাকারীদের নিয়ন্ত্রণ করে তারা কিছুই করতে পারবে না।




