“মধুতে আসক্ত বিধায়কেরা, নজর রাখছে দল!”, তোলাবাজি নিয়ে দলেরই একাংশকে হুঁশিয়ারি দিলীপের

AK Bangla Desk: বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সুরেই এবার দলের একাংশের তোলাবাজি ও দুর্নীতি নিয়ে তীব্র সোচ্চার হলেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা তথা রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, দলীয় পরিচয়ের আড়ালে কোনও ধরনের অন্যায় বা দুর্নীতি করলে কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।
দিলীপ ঘোষের বিস্ফোরক অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে যাঁরা তোলাবাজি বা অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে তাঁরাই এখন বিজেপি নেতানেত্রীদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছেন। রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রীর কথায়, ‘‘তোলাবাজি সংস্কৃতি এত সহজে উঠে যাবে, তা ভাবার কোনো কারণ নেই। দুর্নীতিবাজেরা আমাদের নেতাদের কাছে আসার চেষ্টা করছে এবং দলের অনেক নেতাই সেই প্রভাব এড়াতে পারছেন না।’’ নাম না করে দলের কয়েকজন নতুন বিধায়কের দিকে আঙুল তুলে তিনি বলেন, ‘‘কিছু নতুন বিধায়ক ক্ষমতার স্বাদ পেয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে তোলাবাজদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে। ক্ষমতার মোহে অনেকে ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন, এমনকি তাঁদের কথাবার্তাও পাল্টে যাচ্ছে।’’
সেই সব নেতাদের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে জানিয়ে দিলীপ স্মরণ করিয়ে দেন, জনগণ ঠিক কেন রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন এনেছে, তা ভুলে গেলে চলবে না। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘দল সব কিছুর ওপর নজর রাখছে। ছ’মাস যেতে দিন, পার্টি সঠিক সময়ে সব হিসেব কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেবে।’’
এর আগে শনিবার একই ইস্যুতে কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। প্রশাসনিক স্তরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কঠোর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে শমীক বলেছিলেন, ‘‘দলের পক্ষ থেকেও সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দু’-একটি জায়গায় বিচ্যুতি থাকলেও তা দীর্ঘদিন সহ্য করা হবে না। আরও ১৫ দিনের সময় দেওয়া হচ্ছে, তারপর বুঝতে পারবেন।’’ রূপক হিসেবে ‘ডিম থেরাপি’-র উল্লেখ করে শমীক সতর্ক করেছিলেন যে, এই প্রতিরোধ কিন্তু অন্য দিকেও ঘুরে যেতে পারে, যা দলের প্রত্যেক সদস্যেরই মাথায় রাখা উচিত।



