ভাড়া বাড়িতেই বসেছে জঙ্গিদের ডেরা? বর্ধমানে হামিম গ্রেফতারের পর তোলপাড় দুর্গাপুর, বড় সতর্কবার্তা বিধায়কের!

AK Bangla Desk: বাংলায় কি তবে ধীরে ধীরে শিকড় ছড়াচ্ছে নাশকতার জাল? রাজ্য রাজনীতি থেকে শুরু করে আমজনতার নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন। একের পর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারির ধরণ দেখে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই উঠে আসছে এক মারাত্মক তথ্য, ভাড়ার বাড়িকেই প্রধান আস্তানা বা ‘সেফ হাউস’ হিসেবে ব্যবহার করছে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় জঙ্গি সংগঠনগুলি। সেখান থেকেই নির্বিঘ্নে তৈরি হচ্ছে ভিভিআইপি-দের টার্গেট করার কিংবা নাশকতার নীল নকশা।
সম্প্রতি নিউটাউনের ভাড়াবাড়িতে রহস্যজনক বিস্ফোরণের ঘটনা (যার জঙ্গি যোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে) কিংবা বর্ধমানের রেনেসাঁ ও দুর্গাপুরের মেন গেট সংলগ্ন এলাকা থেকে জইশ-ই-মহম্মদের সন্দেহভাজন জঙ্গি হামিম মণ্ডলের গ্রেফতারি, প্রতিটির সঙ্গেই যুক্ত ভাড়াবাড়ির নাম। পূর্ব বর্ধমানের এই হাই-প্রোফাইল গ্রেফতারির পর থেকেই প্রতিবেশী শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে ছড়িয়েছে চরম আতঙ্ক। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও বাসিন্দাদের সুরক্ষিত রাখতে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন দুর্গাপুরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়।
দুর্গাপুরের কাঁকসা এলাকার অন্যতম বৃহত্তম আবাসন ‘তপবন সিটি’। বহু টাওয়ার এবং হাজার হাজার মানুষের বসবাস এই চত্বরে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা কর্মজীবী মানুষের ভিড়ে প্রতিনিয়ত চেনা-অচেনা মুখের আনাগোনা থাকে এখানে। উল্লেখ্য, এর আগেও কয়লা ব্যবসায়ী রাজু ঝা হত্যাকাণ্ডের এক মূল অভিযুক্তকে এই আবাসন থেকেই গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এছাড়া ২০২৪ সালে কাঁকসা থেকেই বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে এক ছাত্রসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছিল রাজ্য পুলিশের এসটিএফ (STF)।
রেনেসাঁ হাউজিং থেকে জইশ জঙ্গি হামিম গ্রেফতার হতেই তপবন সিটি-সহ দুর্গাপুরের সমস্ত বড় আবাসন ও ভাড়াবাড়ি নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। তবে প্রশাসনিক নজরদারির পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতাকেই আসল হাতিয়ার মনে করছেন বিধায়ক।
এক বিশেষ সচেতনতামূলক সভায় বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “আবাসনের নিরাপত্তা বজায় রাখা আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব। কেউ ফ্ল্যাট বা ঘর ভাড়া দেওয়ার আগে ভাড়াটিয়ার ভোটার কার্ড, পরিচয়পত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি স্থানীয় থানায় জমা দিন। পাশাপাশি আবাসন বা আশপাশে কোনও সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা অস্বাভাবিক কার্যকলাপ নজরে এলে বিলম্ব না করে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ-প্রশাসনকে জানান।”
পুলিশ প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নিয়ম মেনে পুলিশ ভেরিফিকেশন না করিয়ে ঘর ভাড়া দিলে বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।



