0%

শনিবার থেকে শুরু জনগণনার প্রথম ধাপ, ‘ডিজিটাল সেল্ফ এনুমারেশন’; জেনে নিন অনলাইনে তথ্য কীভাবে ভরবেন

স্বাধীনতার পর ভারতের ১৬তম এবং স্বাধীন ভারতের অষ্টম জনগণনা শুরু হল শনিবার, ১ আগস্ট। ২০২৭ সালের জনগণনাকে সামনে রেখে প্রথমবার সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে শুরু হয়েছে সেল্ফ এনুমারেশন বা স্ব-তথ্য নথিভুক্তকরণের প্রক্রিয়া। আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নাগরিকরা সরকারি পোর্টালে নিজেরাই পরিবারের সদস্যদের তথ্য, বাসস্থানের বিবরণ-সহ প্রয়োজনীয় তথ্য অনলাইনে জমা দিতে পারবেন। এরপর ১৬ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই তথ্য যাচাই করবেন গণনাকারীরা।

এই নতুন ব্যবস্থার লক্ষ্য জনগণনার কাজকে আরও দ্রুত, নির্ভুল এবং স্বচ্ছ করে তোলা। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহের ফলে ভুলের সম্ভাবনা কমবে এবং তথ্য বিশ্লেষণও হবে অনেক সহজ।

– বিজ্ঞাপন –

কলকাতায় ৮,২০০ কর্মী, ১,৪০০ সুপারভাইজার

শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে জনগণনা সংক্রান্ত আধিকারিক স্মিতা পান্ডে জানান, কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ডে মোট ৮,১০৫টি গণনা ব্লক চিহ্নিত করা হয়েছে। জনগণনার কাজে ৮,২০০ জন কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১,৪০০ জন সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রশাসনের মতে, কলকাতায় বিভিন্ন জেলা ও অন্য রাজ্য থেকে আসা মানুষের স্থায়ী বসবাসের কারণে এই মহানগরের জনগণনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সেল্ফ এনুমারেশন পর্ব শেষ হওয়ার পর সরকারি কর্মীরা প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে অনলাইনে জমা দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তব তথ্য মিলিয়ে দেখবেন।

স্কুলপড়ুয়ারাও থাকছে সচেতনতায়

জনগণনাকে সফল করতে কলকাতার ৭০০টি সরকারি এবং ৩০০টি বেসরকারি স্কুলকে যুক্ত করা হয়েছে। অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা ফর্ম পূরণে সাহায্য করা এবং অন্তত ১০টি পরিবারকে জনগণনা সম্পর্কে সচেতন করার কাজে অংশ নেবে।

শনিবার থেকেই কলকাতা পুরসভার ১৬টি বরোতে জনগণনার আধিকারিকদের বিশেষ দল কাজ শুরু করবে। প্রতিটি বরোর জন্য পাঁচটি করে টিম গঠন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ ২৪ পরগনায়ও শুরু সেল্ফ এনুমারেশন

দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক অভিষেক কুমার তিওয়ারি জানিয়েছেন, ১ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে সেল্ফ এনুমারেশন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সরকারি পোর্টালে অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়া যাবে। এরপর ১৬ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে বাড়ি বাড়ি তথ্য যাচাইয়ের কাজ।

দুটি ধাপে সম্পূর্ণ হবে জনগণনা

২০২৭ সালের জনগণনা হবে দুই পর্যায়ে।

প্রথম ধাপ: গৃহ তালিকা (House Listing) ও গৃহগণনা
এই পর্যায়ে প্রতিটি বাড়ি, বসবাসের ধরন এবং বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

দ্বিতীয় ধাপ: জনসংখ্যা গণনা (Population Enumeration)
এই ধাপে পরিবারের সদস্যদের বয়স, লিঙ্গ, শিক্ষা, পেশা-সহ বিভিন্ন জনসংখ্যাগত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

প্রথমবার জাতিভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ

এবারের জনগণনায় দীর্ঘদিন পর জাতিভিত্তিক (Caste) তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি গণনাকারীরা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করবেন। তবে প্রয়োজনে অফলাইন পদ্ধতিও চালু থাকবে। তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ডিজিটাল সুরক্ষা ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ জনগণনা?

জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতেই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, খাদ্য নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের পরিকল্পনা তৈরি করে। এছাড়া সরকারি সম্পদের বণ্টন, লোকসভা ও বিধানসভা কেন্দ্রের সীমানা পুনর্নির্ধারণ (Delimitation) এবং ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণেও জনগণনার তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাগরিকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সঠিক তথ্য দিয়ে সেল্ফ এনুমারেশন সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে দেশের বৃহত্তম পরিসংখ্যানভিত্তিক এই কর্মসূচি আরও সফলভাবে সম্পন্ন করা যায়।

নিজের তথ্য নিজেই পূরণ করুন https://se.census.gov.in এই ওয়েবসাইটে ক্লিক করে। এখানেই চলবে সেল্ফ এনুমারেশন। চলুন জেনে নেওয়া যাক অনলাইনে জনগণনার জন্য কোন কোন তথ্য জমা দিতে হবে।

  • প্রথমেই https://se.census.gov.in ওয়েবসাইটে যেতে হবে। সেখান থেকে নিজের রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বেছে নিতে হবে। তারপর ‘OK’ ক্লিক করতে হবে।
  • এখানে পরিবারের প্রধানএর নাম এবং তাঁর মোবাইল নম্বর দিতে হবে। ই-মেল আইডি দিতে হবে। যদি ইমেল না থাকে তাতে না দিলেও চলবে। ক্যাপচা দিলে মোবাইলে একটি ওটিপি অর্থাৎ ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড আসবে। ওই ওটিপিতে ক্লিক করতে হবে।
  • এরপর একটি নতুন পেজ খুলবে। সেখানে পছন্দের ভাষা নির্বাচন করতে হবে। আবারও নথিভুক্ত মোবাইল নম্বরে আসা ওটিপি-টি লিখতে হবে। ক্লিক করে ভেরিফাই ওটিপি করতে হবে।
  • এবার আবার একটি নতুন পেজ খুলবে। নিজের জেলা বেছে পিনকোড-টি ঠিক ভাবে দিতে হবে। বাড়ির কাছের ল্যান্ডমার্ক বা এলাকার উল্লেখযোগ্য স্থানের নাম দিতে হবে। ম্যাপে লাল রঙের মার্কার থাকবে। সেখানে গিয়ে ল্যান্ডমার্ক চিহ্নিত করতে হবে।
  • এরপর আরোও একটি পেজ খুলবে। সেখানে আপনার বাড়ির বর্তমান অবস্থা সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।
  • তথ্যগুলি পূরণ করার পর পুরোটা বারবার ভালো করে যাচাই করে নেবেন। ভুল হলে তখনই তথ্য বদলে নিন। পুরো তথ্য যাচাই করা হয়ে গেলে, তবেই সাবমিট করুন। এরপর আপনি চূড়ান্তভাবে ফর্ম জমা দিতে চান কিনা, সে তথ্য জানতে চাওয়া হবে। ‘ইয়েস’ বা ‘হ্যাঁ’ করলে তবে জমা দিতে পারবেন।
  • ফর্ম জমার পরে একটি ১১ সংখ্যার ইউনিক আইডি ‘এসই আইডি’ দেওয়া হবে। সেটি অবশ্যই লিখে রাখবেন। এসএমএসের মাধ্যমে ফোনেও পাবেন সেই আইডি। ই-মেল দেওয়া থাকলে সেখানেও আইডি পাবেন। গণনাকারী যখন বাড়িতে আসবেন, তাঁকে সেই আইডি দিতে হবে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker