শনিবার থেকেই স্কুলে ইসকনের মিড ডে মিল, মেগা কিচেনের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী

AK Bangla 24×7 Digital: পূর্ব ঘোষণা মতোই ১ আগস্ট থেকে রাজ্যের সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের পাতে পৌঁছতে শুরু করল ইসকনের তৈরি স্বাস্থ্যকর মিড ডে মিল। শনিবার পাইলট প্রকল্পের এই মেগা কিচেনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উদ্বোধনের আগে ইসকন আয়োজিত বিশেষ যজ্ঞেও সামিল হন তিনি। এরপর সরাসরি মেগা কিচেনের রান্নাঘরে ঢুকে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী এবং নিজেও কিছুক্ষণের জন্য মিড ডে মিল রান্নায় হাত লাগান। এদিন তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। উদ্বোধনী পর্বে প্রতীকী হিসেবে ৫টি স্কুলের ৪০ জন পড়ুয়া উপস্থিত ছিল। অনুষ্ঠান শেষে খাবার সরোবরাহের জন্য ব্যবহৃত ইলেকট্রিক গাড়িগুলির ফ্ল্যাগ অফ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইসকনের ‘অন্নামৃত ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে এই স্বচ্ছ ও সুসংগঠিত মিড ডে মিল সরবরাহ ব্যবস্থা শুরু করা হয়েছে। তিনি ইসকনের সমস্ত প্রচারক, সহযোগী ও কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি স্মরণ করিয়ে দেন, ছাত্রছাত্রীদের স্কুলমুখী করা ও তাদের সার্বিক বিকাশের লক্ষ্যে মিড ডে মিলের সূচনা করেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ভারতরত্ন অটল বিহারী বাজপেয়ী। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে বহু সামাজিক সংস্থা এগিয়ে এসেছে এবং শিশুদের পাতে সুষম আহার পৌঁছে যাচ্ছে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে রান্না করা খাবার সম্পূর্ণ সীলড কনটেনারে করে ইলেকট্রিক গাড়ির মাধ্যমে সরাসরি স্কুলে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে খাবারের গুণমান ও নিরাপত্তা বজায় থাকে। স্কুলে পৌঁছনোর পর কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষরের পরই সেই সিল খোলা যাবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রায় আড়াই লক্ষ শিক্ষার্থীর কাছে এই খাবার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে এবং মিড ডে মিলে মাথাপিছু বরাদ্দ বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে।
ইসকনের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ নিয়ে ওঠা বিভিন্ন সমালোচনার জবাব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে সমালোচনাকে স্বাগত জানানো হলেও রাজ্য সরকার পুষ্টির বিষয়ে কোনও আপস করছে না। ওড়িশার উদাহরণ টেনে তিনি জানান, সেখানে সপ্তাহে ১ দিন ডিম দেওয়া হলেও পশ্চিমবঙ্গে পড়ুয়াদের পাতে সপ্তাহে ২ দিন করে ডিম তুলে দেবে রাজ্য সরকার।
একইসঙ্গে মিড ডে মিলের বর্তমান রাঁধুনিদের আশ্বস্ত করে তিনি স্পষ্ট জানান, কারও রুজি-রুটি কাড়া হবে না। ইসকন তাঁদের রান্না ও খাবার পরিবেশনের কাজে যুক্ত রাখবে। উপরন্তু, চলতি আগস্ট মাস থেকেই রাঁধুনিদের মাসিক ভাতা ২,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা করা হয়েছে।



