তসলিমার ডাকে মঞ্চে উঠতেই ধেয়ে এল বিক্ষোভ! কবি বললেন, “আবার ডাকলে যাব, অপমানিত হতেও রাজি!”

AK Bangla Desk: তসলিমা নাসরিনের ‘ঘরে ফেরা’ উদযাপনে উপস্থিত হয়ে চরম অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়লেন প্রবাদপ্রতিম কবি জয় গোস্বামী। শনিবার সন্ধ্যায় কলকাতার রবীন্দ্রসদনে আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তসলিমার আহ্বানে মঞ্চে উঠতে গিয়ে দর্শকদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়তে হয় কবিকে। ঘটনার ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় পর রবিবার এই বিতর্কিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন জয় গোস্বামী নিজে।
প্রতিবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে স্বাগত জানাতে এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সংবর্ধনা পর্ব শেষে তসলিমাকে বক্তব্য রাখার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। বক্তব্য রাখতে উঠেই দর্শকাসনে বসে থাকা কবিকে দেখে তসলিমা বলেন, ‘‘দেখতে পাচ্ছি আমার অগ্রজ, শ্রদ্ধেয় কবি জয় গোস্বামী ওখানে বসে আছেন। আমি তাঁকে মঞ্চে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি।” তসলিমার এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে জয় গোস্বামী আসন ছেড়ে মঞ্চের দিকে পা বাড়াতেই পুরো অডিটোরিয়াম জুড়ে তীব্র হইচই ও ধিক্কার ধ্বনি শুরু হয়।
দর্শকদের এই তীব্র বিরোধিতার কারণে মাঝপথ থেকেই নিজের আসনে ফিরে আসতে বাধ্য হন তিনি। পরিস্থিতি কিছুটা বিশৃঙ্খল হয়ে উঠলেও তসলিমা পরে জানান, এমন আচরণে তিনি অত্যন্ত ব্যথিত ও হতবাক।
রবিবার সংবাদমাধ্যমের কাছে এই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে জয় গোস্বামী বলেন, ‘‘আমি তো বুঝতে পারিনি ওটা আমাকে লক্ষ্য করে ধিক্কার ধ্বনি। তসলিমার মুখটা পাংশু হয়ে গিয়েছিল। উনি অত্যন্ত সংবেদনশীল মানুষ, তাই তাঁকে আর বিব্রত না করতেই আমি ফিরে আসি।” জনরোষের কারণ ব্যাখ্যা করে কবি অত্যন্ত বিনম্রভাবে স্বীকার করেন, ‘‘গত ১৫ বছর তসলিমাকে কলকাতায় ফেরানোর জন্য আমি কোনও সোচ্চার ভূমিকা নিইনি। তাই ওই মঞ্চে থাকার অধিকার আমার ছিল না। যাঁরা আমাকে ধিক্কার দিয়েছেন, তাঁরা একদম ঠিক কাজই করেছেন।”
তবে অপমানিত হলেও তসলিমার প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা যে বিন্দুমাত্র কমেনি, তা স্পষ্ট করে কবি জানান, ‘‘তসলিমা যদি আবারও কলকাতায় আসেন এবং আমাকে ডাকেন, আমি আবারও যাব। প্রয়োজন হলে আবারও অপমানিত হব, কিন্তু আজীবন তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে যাব।”



