নিজদেশে অবহেলার জন্যই কমনওয়েলথে ব্যর্থ নাদিম? রিপোর্টে স্পষ্ট পাকিস্তানের বেহাল দশা

গ্লাসগোয় কমনওয়েলথ গেমসের ফাইনালে আরশাদ নাদিমকে দেখে চেনাই যাচ্ছিল না। দু’বছর আগে অলিম্পিকে সোনাজয়ী পাকিস্তানের তারকা জ্যাভলিন থ্রোয়ারকে কেমন যেন ক্লান্ত-অবসন্ন লাগছিল। তাঁকে কেন এত ম্রিয়মাণ মনে হয়েছে? প্রকাশ্যে এসেছে কারণ। অভিযোগের তির পাকিস্তানের ক্রীড়া প্রশাসনের দিকেই। বলা ভালো, নিজদেশের কাছেই যেন ‘হেরে’ গেলেন নাদিম।
গ্লাসগোয় ১৫ ডিগ্রিরও কম তাপমাত্রায় প্রতিযোগিতা হয়েছে। জ্যাভলিনে এমন আবহাওয়ার জন্য আলাদা প্রস্তুতি প্রয়োজন। কিন্তু নাদিমকে পুরো প্রস্তুতি নিতে হয়েছে লাহোরের গরম আবহাওয়ায়। ফলে প্রতিযোগিতার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই কঠিন হয়ে দাঁড়ায় তাঁর কাছে। অন্যদিকে ভারতের নীরজ চোপড়া কমনওয়েলথের আগে অনুশীলন করেছেন সুইজারল্যান্ডে। যশবীর সিং পোল্যান্ডে। গ্লাসগোর আবহাওয়ার সঙ্গে মিল থাকায় সেই প্রস্তুতির সুফলও পেয়েছেন তাঁরা। নীরজ জিতেছেন রুপো। যশবীর ব্রোঞ্জ।
অভিযোগ, অলিম্পিক্সে দেশের হয়ে একমাত্র ব্যক্তিগত সোনা জেতার পরেও নাদিমকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়নি পাকিস্তান অ্যামেচার অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন। ফেডারেশনের সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরেই নাকি বিদেশে অনুশীলনের সুযোগ পাননি তিনি। অলিম্পিকের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ টেরসিউস লিউবেংবার্গের অধীনে প্রস্তুতি নিলেও কমনওয়েলথের আগে তাঁকে স্থানীয় কোচ সলমন বাটের অধীনেই অনুশীলন করতে হয়েছে। বিদেশি কোচ বা বিদেশে প্রস্তুতির জন্যও কোনও আর্থিক সহায়তা মেলেনি বলে জানা গিয়েছে।
পাকিস্তানের অলিম্পিক পদকজয়ী প্রাক্তন অ্যাথলিট হুসেন শাহ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন,”গ্রাম থেকে উঠে এসে সম্পূর্ণ নিজের ক্ষমতায় ও পাকিস্তানকে সাফল্য এনে দিয়েছে। তাকে কমনওয়েলথের প্রস্তুতির ন্যূনতম সুবিধাও দেওয়া গেল না। এটাই আমাদের দেশের খেলাধুলোর করুণ ছবি।” শুধু নাদিম নন, এবারের কমনওয়েলথে পাকিস্তানের প্রথম মহিলা পদকজয়ী ফাতিমা জেহরাও ফেডারেশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, আরও ভালো সুযোগ-সুবিধা পেলে ব্রোঞ্জ নয়, সোনার জন্যও লড়াই করতে পারতেন।
শেয়ার
লিংক



