0%

অনুপ্রবেশ রুখতে বড় পদক্ষেপ! সমুদ্রে ভাসমান প্রাচীর স্থাপনের সিদ্ধান্ত এই দেশের

বাংলাহান্ট ডেস্ক: স্পেনের (Spain) স্বায়ত্তশাসিত শহর সিউটাকে ঘিরে অবৈধ অনুপ্রবেশের সাম্প্রতিক সংকট নতুন মাত্রা পাওয়ার পর বড় নিরাপত্তা পদক্ষেপের ঘোষণা করেছে স্পেন সরকার। মরক্কো (Morocco) ও সিউটার (Ceuta) মধ্যবর্তী সমুদ্রসীমায় (Sea Barrier) এবার বসানো হবে প্রায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ একটি ভাসমান প্রাচীর বা ফ্লোটিং ব্যারিয়ার। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে বিপুল সংখ্যক অনুপ্রবেশকারী সমুদ্রপথে সিউটায় প্রবেশের চেষ্টা করেছেন, তা থেকেই শিক্ষা নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের আশা, নতুন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর হলে সমুদ্রপথে অবৈধ অনুপ্রবেশ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

অনুপ্রবেশ রুখতে সমুদ্রে ভাসমান প্রাচীর (Sea Barrier) স্থাপনের সিদ্ধান্ত স্পেনের:

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই ভাসমান কাঠামো (Sea Barrier) শুধু জলের উপরেই থাকবে না, বরং প্রায় এক মিটার পর্যন্ত পানির নিচেও বিস্তৃত থাকবে। এর পাশাপাশি স্পেনের নৌবাহিনীর নোঙর করা বয়ার আরও একটি সারি বসিয়ে গোটা নিরাপত্তা বলয়কে শক্তিশালী করা হবে। ফলে ছোট নৌকা বা সাঁতরে সীমান্ত অতিক্রম করার সম্ভাবনাও অনেকটাই কমে যাবে বলে মনে করছে প্রশাসন। সম্প্রতি মরক্কো থেকে সিউটায় ঢুকে পড়া প্রায় ৫০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত পাঠানোর পরই এই পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। একইসঙ্গে অনুপ্রবেশকে ঘিরে সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭-এ পৌঁছেছে বলেও জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন: চলতি সপ্তাহেই বড় চমক! বাংলাদেশ ছাড়ার পর প্রথমবার ভারতে জনসমক্ষে আসছেন শেখ হাসিনা

উত্তর আফ্রিকার উপকূলে অবস্থিত সিউটা ভৌগোলিকভাবে মরক্কোর সীমানার কাছে হলেও এটি স্পেনের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। দীর্ঘদিন ধরেই এই সীমান্ত ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। তবে গত সপ্তাহে পরিস্থিতি আচমকাই আরও জটিল হয়ে ওঠে। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দাবি, বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৪৮ হাজার ৩০০ জন অনুপ্রবেশকারী সিউটায় ঢুকে পড়েন। অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, এই সংখ্যা ৬০ হাজারও ছাড়িয়ে যেতে পারে। সীমান্তে হাজার হাজার মানুষের ভিড় জমে গেলে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। সংঘর্ষের পর এলাকায় একটি বাস এবং একাধিক গাড়ি পুড়ে যাওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। সীমান্তের বিভিন্ন অংশে স্পেনের সেনা মোতায়েন থাকায় বহু মানুষ আবার মরক্কোর দিকেই আটকে পড়েন।

অনুপ্রবেশকারীদের অনেকেই জানিয়েছেন, সিউটায় পৌঁছেও পর্যাপ্ত খাবার, আশ্রয় বা প্রয়োজনীয় সহায়তা পাননি। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকে আবার মরক্কোতে ফিরে যাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই কাজের সন্ধানে আসা তরুণ মরক্কোর নাগরিক। আবার কেউ কেউ অন্য দেশ থেকেও মরক্কোয় এসে সেখান থেকে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। ২৪ বছর বয়সি কামাল ওমর জানান, তিনি ২০২৩ সালে সুদানের গৃহযুদ্ধের কারণে দেশ ছাড়েন এবং পরে মরক্কোয় পৌঁছান। তাঁর কথায়, তিনি আর মরক্কোয় ফিরতে চান না এবং নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজেই সিউটায় প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। এই মানবিক সংকটকে ঘিরে ইউরোপ জুড়েও উদ্বেগ বাড়ছে। ইতিমধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০টিরও বেশি সদস্য দেশ ইউরোপীয় কমিশনের কাছে জরুরি বৈঠক ডাকার আবেদন জানিয়েছে।

This country has decided to install a floating sea barrier to prevent infiltration.

আরও পড়ুন: দিল্লি-হাওড়া করিডরে প্রতিদিন চলবে আরও ৪০টি ট্রেন, ভারতীয় রেলের বড় ঘোষণা

এই অভূতপূর্ব পরিস্থিতির নেপথ্যে স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের ভুল ব্যাখ্যাও বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, সমুদ্রপথে আটক হওয়া অভিবাসীরা যদি স্পেনের ভূখণ্ডে পৌঁছাতে গিয়ে কোনও শারীরিক বাধা অতিক্রম না করে থাকেন, তবে তাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো যাবে না। অভিযোগ, মানব পাচারকারী চক্র এই রায়ের ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে দেয় এবং হাজার হাজার মানুষকে সমুদ্রপথে সিউটায় যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করে। তারই জেরে সীমান্তে নজিরবিহীন ভিড় তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পেন এখন একদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করছে, অন্যদিকে ইউরোপীয় স্তরেও এই সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে (Sea Barrier)।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker