0%

সোশ্যাল মিডিয়ার স্বীকৃতিতেই জেন জি-র সুখ-দুঃখ, বলছে সমীক্ষা – সবদিক

জেন জি সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা হল তারা বাস্তব জীবন বা রিয়েল লাইফ নিয়ে উদাসীন, রিল ভিডিও বানাতেই ব্যস্ত। কিন্তু সাম্প্রতিক ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে দেশ জুড়ে চলা পড়ুয়াদের আন্দোলনেই প্রকাশ যে জেন জি মোটেই চারপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে উদাসীন নয়। জেন জিদের কাছে সোশ্যাল মিডিয়া আর ছবি বা ভিডিও শেয়ার করা বা বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলার মাধ্যম নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক, কমেন্ট, শেয়ারের মাধ্যমে পাওয়া ভ্যালিডেশন বা অনলাইন স্বীকৃতিও তাদের মানসিক খুশি, সন্তুষ্টির ওপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলে। এনিয়ে সম্প্রতি আর্থসামাজিক সমীক্ষা চালানো হয়।

কোটার সরকারি আর্টস কলেজের ডিপার্টমেন্ট অফ সোশিওলজির অধ্যাপক ডক্টর জ্যোতি সিদানা ২৫ দিন ধরে একটানা সমীক্ষা চালান বিভিন্ন কলেজের ১৪১ জন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের ছাত্রীদের ওপর। সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর নির্ভরতা কীভাবে তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্য, সম্পর্ক ও আবেগের ওপর প্রভাব ফেলে তা বিশ্লেষণ করে দেখা হয় গবেষণায়।

– বিজ্ঞাপন –

গবেষণায় দেখা গেছে, ৮২.৯% ছাত্রী জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের করা পোস্টে লাইক, কমেন্ট, ভিউজের সরাসরি প্রভাব পড়ে তাঁদের মনের ওপর। ৯.৮% ছাত্রী জানান সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে কত লাইক হল, কে কেমন করল বা কত সংখ্যক ভিউজ হল তার কিছুটা প্রভাব তাঁদের মনের ওপর পড়ে। ৭.৩% পড়ুয়া জানান কোনো প্রভাব পড়ে না।

সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক, ভিউজের মাধ্যমে সকলের মধ্যে জেন জি নিজেদের জনপ্রিয়তা, নিজেদের আত্মপরিচয় ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা কতটা হয়েছে তা বিচার করে। পোস্টে তেমন লাইক না মিললেই জেন জি মনে করে তাদের তেমন গ্রহণযোগ্যতা নেই পরিচিত মহলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের সঙ্গে ক্রমাগত নিজের তুলনা করে জেন জিরা মানসিক উদ্বেগ, আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া ও মানসিক উৎকণ্ঠায় ভুগতে শুরু করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ৬১% ছাত্রী মনে করেন অনলাইনে হাজার হাজার ফলোয়ার থাকলেও বাস্ত
জীবনে তাঁরা খুব একা। মনের ভাব প্রকাশ করার জায়গা নেই। মনের কথা শোনার কোনো লোক নেই। ভার্চুয়াল জগতের বন্ধুত্বে মানসিক একাত্মবোধ নেই। অনলাইন ভার্চুয়াল জগতের বন্ধুত্বে সাময়িক তৃপ্তি হলেও সঙ্কটের সময় ভরসা মেলে না।

গবেষণায় উঠে এসেছে, সোশ্যাল মিডিয়া একদিকে যেমন জেন জি’র সামনে প্রযুক্তিগত বিরাট আঙিনা খুলে দিয়েছে তেমনই মানসিক উদ্বেগ, একাকীত্ব ও প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৪৮.২% ছাত্রী নোটিফিকেশন আসার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের ফোন পরীক্ষা করে দেখে। ৪৩.৯% ছাত্রী জানিয়েছে ফোন দেখার কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। ৭০% জেন জি মনে করেন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সাময়িক দূরত্ব দরকার কিন্তু সেটা করা কঠিন বলেও মনে করেন। ৪৩.৯% জেন জি’র মনে হয় সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে দেখনদারি করার প্রবণতা বেড়েছে। ১৪.৬% জেন জি’র কাছে সোশ্যাল মিডিয়া খরচ করার প্রবণতা বাড়িয়ে তুলেছে। ৬১% জেন জি আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলিং, নেতিবাচক মন্তব্যর কারণে মানসিক উদ্বেগে ভোগার কথা জানিয়েছেন।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker