0%

গাড়ি চালাতেন, বালি ব্যবসায় নামতেই কোটির সম্পত্তি! বাপন ভট্টাচার্যের ‘রকেট গতির’ উত্থান ঘিরে তোলপাড় বীরভূম

সৌতিক চক্রবর্তী, বীরভূম: বীরভূমে বালি ও পাথর ব্যবসাকে ঘিরে ফের একাধিক প্রশ্ন সামনে আসছে। সম্প্রতি টুলু মণ্ডলের ঘনিষ্ঠদের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা ও নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে জেলার বালি-পাথর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্পত্তি ও আর্থিক উত্থান নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। সেই আবহেই এবার আলোচনায় ইলামবাজারের দেবীপুর গ্রামের বালি ব্যবসায়ী বাপন ভট্টাচার্য।

স্থানীয় সূত্রে দাবি, একটা সময় বাপন ভট্টাচার্য চার চাকার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এরপর ধীরে ধীরে বালি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ তৈরি হয়। পরবর্তীতে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বালি ব্যবসায় নামেন তিনি। আর ব্যবসায় নামার পর থেকেই তাঁর আর্থিক উত্থান দ্রুতগতিতে শুরু হয় বলে স্থানীয়দের একাংশের দাবি।

অভিযোগ, বর্তমানে দেবীপুর গ্রামে বাপন ভট্টাচার্যের রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ি। বাড়িতে রয়েছে একাধিক দামি গাড়ি রাখার জন্য গ্যারেজ এবং দামি জাতের কুকুর। তাঁর জীবনযাত্রার এই পরিবর্তনই এখন স্থানীয় মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একসময় গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা একজন ব্যক্তির এত দ্রুত আর্থিক উত্থান কীভাবে সম্ভব হল? বালি ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার পরেই কি তাঁর সম্পত্তি ও জীবনযাত্রায় এত বড় পরিবর্তন এসেছে? যদি এসে থাকে, তাহলে সেই বিপুল সম্পত্তির প্রকৃত উৎস কী, এমনই প্রশ্ন উঠছে।

শুধু দেবীপুরেই নয়, বিভিন্ন জায়গায় তাঁর নামে বা বেনামে সম্পত্তি রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠছে। তবে সেই সম্পত্তির প্রকৃত পরিমাণ কত, কোন সম্পত্তি তাঁর নিজের নামে এবং কোনটি বেনামে রয়েছে, এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সরকারি নথি বা তদন্তকারী সংস্থার নিশ্চিত তথ্য এই মুহূর্তে সামনে আসেনি।
বীরভূমে বালি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই সিন্ডিকেট, বেআইনি কারবার এবং বিপুল অর্থের লেনদেনের মতো নানা অভিযোগ শোনা যায়। সম্প্রতি টুলু মণ্ডলকে ঘিরে তদন্ত ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের সম্পত্তি থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা ও টাকা উদ্ধারের ঘটনায় সেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। ফলে জেলার অন্যান্য বালি ব্যবসায়ীদের আর্থিক উত্থান এবং সম্পত্তির উৎস নিয়েও নজর পড়ছে।

তবে বাপন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাঁর সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য, আয়ের উৎস কিংবা বালি ব্যবসার মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সত্য কি না, তা সরকারি তদন্ত বা নথিপত্র ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। বাপন ভট্টাচার্যের বক্তব্যও এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি; তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন একটাই, গাড়ি চালানো থেকে বালি ব্যবসা, আর তারপর কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি, বাপন ভট্টাচার্যের এই ‘রকেট গতির’ উত্থানের নেপথ্যে আসলে কী? বালি ব্যবসাই কি এই বিপুল সম্পদের মূল উৎস, নাকি রয়েছে অন্য কোনও আয়ের পথ? সেই প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজছে এলাকার মানুষ।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker