0%

TMC MP Shatrughan sinha clarifies his stance on speculation regarding a party switch

একে একে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়েছেন ২০ জন সাংসদ। এই আবহে তৃণমূল সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহার দলবদল নিয়ে শুরু হয় জল্পনা। এতদিন তিনি প্রকাশ্যে কিছু না জানালেও সোমবার আসানসোলে একটি অনুষ্ঠানে তিনি মুখ খোলেন। এদিন শত্রুঘ্নর সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা যায় কুলটির বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি মন্ত্রী অজয় পোদ্দার এবং আসানসোল উত্তরের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়কে। এরপরই তাঁর দলবদল নিয়ে ফের শুরু হয় চর্চা। যদিও দল বদলের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে শত্রুঘ্ন জানান, “ওয়ান্স এ ফ্রেন্ড, অলওয়েজ এ ফ্রেন্ড—আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।”

আসানসোল চাঁদমারি রাইফেল ক্লাবে আয়োজিত ৫৮তম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপের মেগা ইভেন্ট উপলক্ষে শহরের রাজনৈতিক অঙ্গনে এদিন এক অভূতপূর্ব ও অভাবনীয় দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন আসানসোলবাসী। দলীয় রাজনীতির তীব্র মেরুকরণকে সরিয়ে রেখে একই মঞ্চে পাশাপাশি হাসিমুখে দেখা গেল স্থানীয় তৃণমূল সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা, কুলটির বিজেপি বিধায়ক তথা মন্ত্রী অজয় পোদ্দার ও আসানসোল উত্তরের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়কে। সরকারি বা বেসরকারি নানা দলীয় কোন্দলের ঊর্ধ্বে উঠে এই তিন হেভিওয়েট প্রতিনিধির একসঙ্গে উপস্থিতি শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন এক সৌজন্যের বাতাস নিয়ে এল।

ইদানীংকালে শত্রুঘ্নর দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক অলিন্দে জোর জল্পনা ছড়াচ্ছিল। সেই সমস্ত গুঞ্জন এদিনের মঞ্চ থেকেই এক ঝটকায় উড়িয়ে দেন আসানসোলের সাংসদ। তিনি সাফ জানান, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। ইডি, সিবিআই বা অন্য কোনও ভয় ও প্রলোভনের মুখে পড়ে যাঁরা দল ত্যাগ করছেন, তাঁদের সমালোচনা করে সাংসদ বলেন, “যারা ভয়ে বা বাধ্য হয়ে দল ছাড়ছেন, তাঁদের চিন্তা করা উচিত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাঁরা কী বার্তা দিচ্ছেন।” নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “আমি একটি খোলা বইয়ের মতো। ওয়ান্স এ ফ্রেন্ড, অলওয়েজ এ ফ্রেন্ড—আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।”

​অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আসানসোল উত্তরের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের সুস্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি বলেন, “আসানসোল রাইফেল ক্লাবের মতো দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বদাই রাজনীতির প্রভাবের বাইরে রাখা উচিত। মতাদর্শ যার যার নিজের জায়গায় থাকবে, কিন্তু উন্নয়নের জন্য সবাইকে এক ছাদের তলায় আসতে হবে।” সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহার প্রশংসা করে তিনি আরও যোগ করেন, “শত্রুঘ্ন সিনহার মতো আন্তর্জাতিক মানের ব্যক্তিত্বকে নির্দিষ্ট কোনও রাজনৈতিক দলের তকমায় আটকে রাখা ভুল। আসানসোলের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে শাসক ও বিরোধী শিবিরের একত্রে কাজ করা উচিত।”

​রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি আসানসোলকে ‘সিটি অব ব্রাদারহুড’ বা সম্প্রীতির শহর হিসেবে তুলে ধরেন সাংসদ। খেলার পরিকাঠামো উন্নয়নে মন্ত্রী অজয় পোদ্দার গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করে জানান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে পদকজয়ী শুটারদের রাজ্য সরকারের ক্যাবিনেট সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অনারারি ডিএসপি পদে নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি রাইফেল ক্লাবে আবাসিক হোস্টেল ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেন নেতৃবৃন্দ।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker