মালদহে ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে টাকার পাহাড়! উদ্ধার প্রায় আড়াই কোটি নগদ

AK Bangla Desk: বীরভূমের পর এ বার মালদহে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। রবিবার গভীর রাতে মালদহের মঙ্গলবাড়ি এলাকার একটি আবাসনের ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। ফ্ল্যাটের বিছানা ও আলমারির ভিতরে থরে থরে সাজানো ছিল নোটের বান্ডিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তল্লাশিতে মোট ২ কোটি ৪০ লক্ষ ৯৭ হাজার টাকা নগদ পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২০ গ্রাম সোনা এবং কয়েক লক্ষ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ উদ্ধার হয়েছে। নগদ টাকার পরিমাণ এতটাই বেশি ছিল যে, তা গোনার জন্য ঘটনাস্থলে টাকা গোনার যন্ত্র নিয়ে আসতে হয়।
এই ঘটনায় পিন্টু সরকার নামে এক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ওষুধের ব্যবসার আড়ালে নিষিদ্ধ কাফ সিরাপের কারবার চালানো হচ্ছিল। উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ সেই বেআইনি ব্যবসার লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, গত ৫ জুলাই দক্ষিণ দিনাজপুরের মেহেন্দ্রিপাড়া এলাকা থেকে প্রায় ১,৫০০ বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই মালদহের ব্যবসায়ী পিন্টু সরকারের নাম সামনে আসে বলে দাবি তদন্তকারীদের। এরপর মালদহ জেলা পুলিশ এবং দক্ষিণ দিনাজপুর পুলিশের যৌথ দল মঙ্গলবাড়ির ওই আবাসনে অভিযান চালায়। জুলাই মাসে গ্রেফতার হওয়া চার অভিযুক্তকেও সঙ্গে নিয়ে ফ্ল্যাটটি শনাক্ত করা হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
তদন্তে জানা গিয়েছে, আবাসনটির মালিক দিলীপ সাহা। তাঁর কাছ থেকে তিনতলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন পিন্টু সরকার। মালদহের নবাবগঞ্জে তাঁর আদি বাড়ি। ওষুধের ব্যবসার কাজে চৌরঙ্গি মোড় সংলগ্ন ওই ফ্ল্যাটে তিনি থাকতেন বলে জানা গিয়েছে। অভিযানের সময় পিন্টু ফ্ল্যাটেই উপস্থিত ছিলেন। তাঁকে সঙ্গে নিয়ে ঘরে তল্লাশি শুরু করেন পুলিশকর্মীরা। আলমারি খুলতেই বিপুল পরিমাণ নোটের বান্ডিল উদ্ধার হয়। ঘরের বিভিন্ন জায়গায় নগদ টাকা লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে দাবি পুলিশের। তল্লাশিতে প্রায় ৯ হাজার বোতল নিষিদ্ধ কাফ সিরাপও উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই সিরাপ পাচার করে বিপুল অর্থ উপার্জন করা হচ্ছিল। তবে উদ্ধার হওয়া সমস্ত টাকার উৎস এবং হিসাব জানতে অভিযুক্তের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও ব্যবসায়িক নথি পরীক্ষা করা হচ্ছে।
পিন্টু সরকারের সঙ্গে এই পাচারচক্রে আর কারা যুক্ত, কোথা থেকে নিষিদ্ধ সিরাপ আনা হত এবং কোন কোন এলাকায় তা সরবরাহ করা হত—এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। এই চক্রের সঙ্গে আরও ব্যবসায়ী বা পরিবহণকারীর যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



