‘ভারতীয় ফুটবলের জন্য বিশাল ক্ষতি…’, জামশেদপুরকে নাম না তুলে নেওয়ার অনুরোধ সুনীলের

শুধু যে আর্থিক সমস্যার জন্য ইন্ডিয়ান সুপার লিগ থেকে জামশেদপুর এফসি নাম তুলে নিয়েছে এরকমটা নয়। কারণ, আইএসএলে খেলতে গেলে যে টাকাটা দরকার, ‘টাটা’ কর্তৃপক্ষর জন্য সেটা হয়তো কোনও সমস্যাই নয়। কিন্তু এফএসডিএল চলে যাওয়ার পর যেভাবে দেশের সেরা লিগ নিয়ে কোনওমতে নমো নমো করে শেষ করার পরিকল্পনা হচ্ছে, সেটাই টাটা কর্তৃপক্ষ মেনে নিতে পারছেন না। আর তাই বোর্ডের নতুন সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, দেশের এক নম্বর লিগে খেলা নয়। তবে আগের মতোই জুনিয়র ফুটবল ডেভলপমেন্টে খরচ করবে টাটা।
জুনিয়র ডেভলপমেন্টে টাটা যে অনেকদিন ধরেই খরচ করে চলেছে, এই বিষয়েও কারও অজানা নেই। কিন্তু ‘টাটা’-র মতো কর্পোরেট সংস্থা ভারতীয় ফুটবল থেকে বিদায় নিলে তা যে কতটা ক্ষতি, সেটা জামশেদপুর এফসির ফুটবলাররা যেরকম বুঝতে পারছেন। সেরকম দেশের আপামর ফুটবল অনুরাগীর পাশাপাশি বুঝতে পারছেন ভারতীয় ফুটবল তারকা সুনীল ছেত্রীও। তাই জামশেদপুর এফসির ফুটবলারদের পাশাপাশি সুনীল এবার নিজের ‘এক্স’ হ্যান্ডলে টাটা কর্তৃপক্ষকে আইএসএল থেকে সরে না যাওয়ার আবেদন করেছেন।
জামশেদপুর এফসির ফুটবলারদের পাশাপাশি সুনীল এবার নিজের ‘এক্স’ হ্যান্ডলে টাটা কর্তৃপক্ষকে আইএসএল থেকে সরে না যাওয়ার আবেদন করেছেন।
এই মরশুমে মোটামুটি ভাবে যা ঠিক হয়েছে, তাতে অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ার কথা আইএসএলের। তার আগে ডুরান্ড চলার মধ্যেই জামশেদপুর কর্তৃপক্ষ সরকারি ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তারা আর এই মরশুমের আইএসএলে নেই। আর জামশেদপুরের এই সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছেন দলের কোচ, সাপোর্টিং স্টাফ এবং ফুটবলাররা। হঠাৎ করে ক্লাব বন্ধ হয়ে গেলে, তাঁদের ভবিষ্যৎ কী হবে? প্রণয় হালদার, প্রতীক চৌধুরি, সার্থক গোলুইরা অন্যান্য ফুটবলারদের নিয়ে ড্রেসিংরুম থেকে একটা ভিডিও প্রকাশ করে টাটা কর্তৃপক্ষর কাছে অনুরোধ করেছেন, আইএসএল থেকে দল না তুলে নেওয়ার জন্য। কারণ, জামশেদপুর এফসির দল তুলে নেওয়ার এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে সমস্যায় পড়ে যাচ্ছেন ফুটবলার এবং কোচিং স্টাফরা।
হয়তো জামশেদপুর এফসির ফুটবলারদের ভিডিওর মাধ্যমে কর্তৃপক্ষর প্রতি করুণ আবেদন দেখে ঠিক থাকতে পারেননি ভারতীয় ফুটবল তারকা সুনীল ছেত্রীও। প্রণয় হালদারদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনিও ‘টাটা’ কর্তৃপক্ষর প্রতি আবেদন করেছেন, আইএসএল থেকে দল তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বদলানোর জন্য। জামশেদপুর এফসির দল তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে সুনীল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এবং কঠিন মুহূর্ত বলে ব্যাখ্যা করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি বলেছেন, ভারতীয় ফুটবলে এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি, তাতে দেশের ফুটবল পরিকাঠামো ঠিক রাখাই মুশকিল। সেখানে টাটা-র মতো সংস্থাগুলি বহুদিন ধরেই ভারতীয় ফুটবলের মেরুদণ্ড হিসাবে কাজ করে এসেছে। জুনিয়র ডেভলপমেন্টে জুনিয়র ফুটবলার তুনে আনার প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে দেশের শীর্ষ লিগে পেশাদার দল হিসেবে অংশ নেওয়া, সবেতেই টাটা গ্রুপের প্রয়াস ছিল অনস্বীকার্য।
It takes a lot to be a stakeholder in Indian football. It has been like that for some time now. But when everything around looks like it will crumble, you bank on family to hold on to each other. And more often than not, it is the elders in the house that you turn to, for…
— Sunil Chhetri (@chetrisunil11) August 2, 2026
কিন্তু এর পাশাপাশি সুনীলও জানেন, এই দেশে ফুটবলে বিনিয়োগ করে কোনও কর্পোরেট সংস্থাই আর্থিক ভাবে লাভবান হয় না। ফলে সেই কথাই উল্লেখ করে সুনীল বলেছেন, ফুটবলকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়িকভাবে হয়তো লাভের অঙ্ক দেখা যায় না। কিন্তু ফুটবলের মতো আবেগের খেলায় কোনও কিছুর সিদ্ধান্ত, শুধুই মস্তিষ্ক দিয়ে না নিয়ে কিছুটা হৃদয় দিয়েও নেওয়া উচিত। আর এই দল তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তে শুধুই যে দলের কোচিং স্টাফ এবং ফুটবলারদের ক্ষতি তা নয়। দেশের সমগ্র ফুটবল পরিকাঠামোর ক্ষতি।
এই দল তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তে শুধুই যে দলের কোচিং স্টাফ এবং ফুটবলারদের ক্ষতি তা নয়। দেশের সমগ্র ফুটবল পরিকাঠামোর ক্ষতি।
এরপরই সুনীল ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘জামশেদপুর নাম তুলে নিলে, হয়তো একটা দল কম নিয়ে লিগ হতে পারে। অথবা জামশেদপুরের বিকল্প কোনও দল নিয়েও লিগ চলতে পারে। কিন্তু ‘টাটা’ কর্তৃপক্ষ ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে জড়িত না থাকলে ভারতীয় ফুটবলের জন্য বিশাল ক্ষতি হয়ে যাবে। এরপরই তিনি ‘টাটা’ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছেন, ভারতীয় ফুটবলের শীর্ষ লিগ থেকে জামশেদপুর এফসি যেন নাম না তুলে নেয়। এখন দেখার, খোদ সুনীলের অনুরোধের পর জামশেদপুর কর্তৃপক্ষ ভারতীয় ফুটবল থেকে তাদের নাম তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে কোনও সিদ্ধান্ত নেয় কি না।
শেয়ার
লিংক



