মুখ্যমন্ত্রীর ওপর হামলার নীল নকশা? জইশ জঙ্গি হামিমের হাওড়ার আস্তানার খোঁজ মেলায় চাঞ্চল্য!

AK Bangla Desk: বর্ধমান থেকে গ্রেফতার হওয়া জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি হামিম মণ্ডলের নাম সামনে আসতেই একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য উঠে আসছে। কাশ্মীরি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এই হামিম হাওড়ার পিলখানা এলাকায় আত্মগোপন করে ছিল বলে তদন্তকারীরা জানতে পারেন। তবে ঘনবসতিপূর্ণ পিলখানার ঠিক কোথায় তার ঘাঁটি, তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। অবশেষে রবিবার সকালে পিলখানার আলম মিস্ত্রি লেনের এক এঁদো গলিতে হামিমের গোপন আস্তানার হদিশ মিলল।
আলম মিস্ত্রি লেনের ৭ নম্বর বহুতলের একতলার দুটি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকত হামিম ও তার বাবা মইনউদ্দিন মণ্ডল। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাধারণ মানুষকে দেখানোর জন্য সেখানে জামার ট্যাগ তৈরির ব্যবসা চালানো হত। একটি ঘরে চলত ট্যাগ ছাপানোর মেশিন আর অন্য ঘরে ছিল কম্পিউটার, যেখানে তথাকথিত ‘অফিসিয়াল’ কাজকর্ম পরিচালিত হত। কিন্তু সেই প্রেসের আড়ালেই কি চলত বড় কোনও জঙ্গি নেটওয়ার্ক বা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির উপর নজরদারির ছক? এখন সেই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
বহুতলের মালিক জানিয়েছেন, গত দুই বছর ধরে মাসে মোট ১১ হাজার টাকা ভাড়ায় ঘর দুটি নিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে গত দু’মাস ধরে হামিমকে এলাকায় দেখা যায়নি। আর হামিমের গ্রেফতারের খবর চাউর হতেই এলাকা থেকে চম্পট দিয়েছে তার বাবাও। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তির সঙ্গে খুব একটা বেশি কথাবার্তা হতো না। এমনকি, সঙ্গে থাকা ব্যক্তিটি আদৌ হামিমের আসল বাবা নাকি ওই জঙ্গি চক্রের অন্য কোনও সদস্য বাবা সেজে লুকিয়ে ছিল, তা নিয়েও সন্দেহ দানা বাঁধছে।
পিলখানার মতো ব্যস্ত এলাকায় সাধারণ ব্যবসার আড়ালে কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে এত বড় জঙ্গি কার্যকলাপের ঘুঁটি সাজানো হচ্ছিল, তা ভেবেই শিউরে উঠছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ধৃত হামিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই আন্তর্জাতিক জঙ্গি কানেকশনের শিকড় কতদূর ছড়িয়ে রয়েছে, তা বের করতে মরিয়া তদন্তকারী সংস্থাগুলি।



