হলমার্কিং সেন্টার থেকে উদ্ধার বিপুল হলমার্কহীন সোনা, দীর্ঘ তদন্তে বড় সাফল্য পুলিশের

AK Bangla 24×7 Digital: কীর্ণাহারে সোনার দোকানে ডাকাতির ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে বোলপুরের একটি হলমার্কিং সেন্টারকে ঘিরে সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি কীর্ণাহারের তিনমাথা মোড় এলাকার একটি সোনার দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশের নজরে আসে বোলপুরের একটি হলমার্কিং সেন্টারের নাম। এরপর তদন্তের গতিপথে ওই হলমার্কিং সেন্টার থেকে বেশ কিছু হলমার্ক না করা সোনা নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ সামনে আসে।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ হলমার্কিং সেন্টারের মহিলা মালিককে গ্রেফতার করে। এরপর শুরু হয় বিস্তারিত তদন্ত। নিখোঁজ সোনার সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি, অনুসন্ধান এবং তথ্য সংগ্রহ করতে থাকে পুলিশ। দীর্ঘ প্রায় সাত মাস ধরে চলা তদন্ত ও তল্লাশি অভিযানের পর অবশেষে নিখোঁজ হওয়া হলমার্ক না করা সোনার একটি বড় অংশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
পুলিশের এই সাফল্যের খবর সামনে আসতেই স্বস্তি নেমে আসে হলমার্কিং সেন্টারের মালিক বিশ্বজিৎ কর্মকার এবং তাঁর পরিবারের মধ্যে। দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ সোনার সন্ধানে অপেক্ষায় ছিলেন তাঁরা। পুলিশের তৎপরতায় সোনা উদ্ধার হওয়ায় আনন্দ ও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বিশ্বজিৎ কর্মকার এবং তাঁর স্ত্রী।
শুধু হলমার্কিং সেন্টারের মালিকই নন, বোলপুরের একাধিক স্বর্ণ ব্যবসায়ীও পুলিশের এই উদ্ধার অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ অনুযায়ী, হলমার্ক করানোর জন্য ওই হলমার্কিং সেন্টারে জমা রাখা সোনা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তাঁরাও দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। উদ্ধার হওয়া সোনার খবর পাওয়ার পর তাঁদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে।
পুলিশের দীর্ঘ তদন্ত, তল্লাশি এবং অনুসন্ধানের ফলে সোনা উদ্ধারের ঘটনাকে বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর পুলিশের তৎপরতায় সোনা উদ্ধার হওয়ায় আশ্বস্ত হলমার্কিং সেন্টারের মালিক এবং সোনা জমা রাখা স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা।
হলমার্কিং সেন্টারের মালিক বিশ্বজিৎ কর্মকার পুলিশের এই তদন্ত ও উদ্ধার অভিযানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা সোনা উদ্ধারের অপেক্ষায় ছিলেন। অবশেষে পুলিশের তৎপরতায় সোনা উদ্ধার হওয়ায় তাঁরা অত্যন্ত আশ্বস্ত এবং কৃতজ্ঞ।
বিশ্বজিৎ কর্মকার পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিশেষভাবে কীর্ণাহার থানার ওসি এবং বোলপুর থানার আইসির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘ সময় ধরে পুলিশ যে ভাবে তদন্ত চালিয়েছে এবং নিখোঁজ সোনার সন্ধানে তৎপর থেকেছে, তার ফলেই এই সাফল্য এসেছে।
তবে এই ঘটনায় তদন্ত এখনও সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়েছে কি না, উদ্ধার হওয়া সোনার পরিমাণ কত এবং নিখোঁজ সোনার বাকি অংশের সন্ধান মিলেছে কি না—সেই বিষয়ে পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর রয়েছে।
সব মিলিয়ে, কীর্ণাহারের সোনার দোকানে ডাকাতির তদন্ত থেকে শুরু করে বোলপুরের হলমার্কিং সেন্টারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ এবং দীর্ঘ প্রায় সাত মাসের তদন্তের পর বিপুল পরিমাণ হলমার্কহীন সোনা উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের তদন্তে বড়সড় সাফল্য এসেছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



