0%

বাড়িতে ধূমপান করলে শিশুদের ঘুমে মারাত্মক প্রভাব! গবেষণায় মিলল নিকোটিনের চাঞ্চল্যকর প্রমাণ – সবদিক

মৌ বসু

বাড়িতে অনেকেই ধূমপান করেন। সিগারেট খাওয়া নিয়ে যতটা স্বাস্থ্য সচেতনতা বড়োদের বিষয় গুরুত্ব দিয়ে নেওয়া হয় ততটা গুরুত্ব কিন্তু বাড়ির খুদে সদস্যদের বেলায় নেওয়া হয় না। সাম্প্রতিক এক গবেষণা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, বাড়ির বড়োরা যদি ধূমপায়ী হন, সেকেন্ড হ্যান্ড স্মোকিং অর্থাৎ ধূমপান না করেও অসুস্থ হয়ে উঠতে পারে বাড়ির খুদে সদস্যরা। সেকেন্ড হ্যান্ড স্মোকিংয়ের কারণে রাতে বাড়ির খুদে সদস্যদের টানা ঘুম হয় না। বারবার পর্যাপ্ত ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে।
ইজরায়েলের বেন গুরিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আভিভ ডি গোল্ডবার্ট ও অধ্যাপক আরিয়েল তারাসিউক মিলে গবেষণা চালান। ১-১২ বছর বয়সি ৩০টি শিশুর ওপর গবেষণা চালানো হয়। গবেষণায় দেখা যায় ৬৭% শিশুর ঘণ্টায় ঘণ্টায় ঘুম ভেঙে যাচ্ছে। সেকেন্ড হ্যান্ড স্মোকিংয়ের কারণে তাদের প্রস্রাবে উচ্চ মাত্রায় নিকোটিনের খোঁজ মিলেছে।
গবেষণা চালানোর সময় ৩০টি শিশুর অভিভাবকদের প্রশ্ন করা হয়। প্রতিদিন সকালে প্রতিটি শিশুর প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ নিকোটিন শরীরে ঢোকার পর কোকোটিন নামক পদার্থ তৈরি হয় মানব শরীরে। শিশুদের শরীরে উচ্চ মাত্রায় কোকোটিন নামক পদার্থর খোঁজ মিলেছে। ৪৬% শিশুর বাবা অথবা মায়ের মধ্যে একজন নিয়মিত ধূমপান করেন। বেশিরভাগই দিনে ১০টির বেশি সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। রাতে শিশুদের পলিসোমনোগ্রাফি পরীক্ষা করা হয়। ল্যাবরেটরিতে শিশুদের ব্রেন ওয়েভ, নিঃশ্বাস প্রশ্বাস, অক্সিজেনের মাত্রা ও হৃদপিণ্ডর ওঠানামার বিশদ খুঁটিনাটি তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা হয়। ৬০% ধূমপায়ী বাবা বা মা জানান তাঁরা তাঁদের সন্তানের সামনে ধূমপান করেন না অথচ সেই সব শিশুদের প্রস্রাবে নিকোটিনের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গেছে। শরীরে কোকোটিন নামক পদার্থ বেশি পরিমাণে থাকলেই শিশুদের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটেছে। তারা বারবার ঘুম ভেঙে উঠে পড়েছে। নিকোটিনের প্রভাবে মস্তিষ্কে অ্যাসেটিলকোলিন নামক পদার্থ ও ডোপামিন হরমোনের নিঃসরণ হয়। মস্তিষ্ক সজাগ থাকে। ঘুমোনোর অসুবিধা হয়। সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে গবেষণা রিপোর্ট।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker