বীরভূমে অবৈধ পাথর ও বালি খাদান চক্রে বড়সড় অভিযান, শতাধিক কোটি টাকার সম্পত্তি উদ্ধার: মুখ্যমন্ত্রী

AK Bangla 24×7 Digital: বীরভূমে অবৈধ পাথর ও বালি খাদানকে কেন্দ্র করে চলা রাজস্ব ফাঁকি ও বেআইনি আর্থিক লেনদেনের বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানকে বড় সাফল্য বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, রাজ্য পুলিশের সক্রিয় ভূমিকার ফলেই সরকারের রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে এবং দীর্ঘদিনের একটি বড় চক্রের হদিশ মিলেছে।মুখ্যমন্ত্রী জানান, শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠকসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি বারবার রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। তাঁর কথায়, ১১ মে থেকে ১১ জুন পর্যন্ত শুধুমাত্র একটি পাথর খাদান এলাকা থেকেই সরকার প্রায় ৮৩ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছে, যা বর্তমানে ১০০ কোটির গণ্ডি অতিক্রম করেছে। এতদিন এই বিপুল অর্থ কোথায় যেত, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
বীরভূমে অভিযানের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মিনার মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২৮ কোটি টাকার সম্পদ এবং প্রায় ৫০ কোটি টাকা মূল্যের সোনা উদ্ধার হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এছাড়াও টুলু মণ্ডল ওরফে নাজিমুদ্দিন মণ্ডলের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৯৩ কোটি টাকার সন্ধান মিলেছে এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলি ইতিমধ্যেই ফ্রিজ করা হয়েছে। তাঁর বাড়ি থেকে ৫৩ লক্ষ টাকা নগদ, তিনটি ক্যাশ কাউন্টিং মেশিন, ৮৩টি ট্রাক ও ডাম্পার এবং ২৩টি সম্পত্তির হদিশ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই সম্পত্তিগুলির মধ্যে সাতটি বাড়ি, একটি ফার্মহাউস এবং প্রায় ৩০০ বিঘা জমি রয়েছে। আইন অনুযায়ী সেগুলি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, মিনার মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আরও পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি এই মামলায় মোট ২৪২টি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আইন মেনে সেগুলির নিলাম করা হবে বলেও তিনি জানান।
এই অভিযানে বীরভূমের পুলিশ সুপার ও জেলা পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) বিভিন্ন ধারার প্রয়োগ করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, টুলু মণ্ডল বর্তমানে রাজ্যের বাইরে রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে এবং তাঁকে গ্রেফতারের জন্য ডিজিপিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, এই চক্রের আন্তর্জাতিক যোগসূত্র রয়েছে। তবে সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করে তিনি জানান, শনিবার এসটিএফ সাংবাদিক বৈঠক করে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানাবে।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, টুলু মণ্ডলের মতো ব্যক্তিদের কার্যকলাপ পূর্বতন সরকারের রাজনৈতিক মদত ছাড়া সম্ভব ছিল না। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে কোনও সরকারি বা বিচারিক নিশ্চিতকরণ মেলেনি। তিনি বলেন, গত পাঁচ থেকে সাত বছর ধরে ব্যাপক রাজস্ব ফাঁকি চলেছে এবং প্রয়োজনে ভূমি দফতর থেকে স্থানীয় পুলিশ— কারও বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিতে সরকার পিছপা হবে না।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই রাজস্ব সরকারের কোষাগারে এলে আরও স্কুল-কলেজ নির্মাণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা যেত। তিনি আরও জানান, বালি খাদানের নিলাম থেকে ইতিমধ্যেই সাড়ে ১৩ কোটি টাকা রাজস্ব এসেছে এবং গত বছরের তুলনায় রাজ্যের মোট রাজস্ব আদায় প্রায় ১২.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অর্থ দফতরের তথ্য উদ্ধৃত করে উল্লেখ করেন। প্রয়োজনে এটিকে আরও সংক্ষিপ্ত, প্রথম পাতার লিড স্টোরি বা রাজনৈতিক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনের আকারেও সাজিয়ে দিতে পারি।



