‘পুলিশের বিধিতে অনুমতি আছে’, প্যালেট গান নিষিদ্ধ নয়, বলল সুপ্রিম কোর্ট

দিল্লির বিক্ষোভেও ব্যবহার হয়েছে পেলেট গান।Image Credit: PTI
নয়া দিল্লি: পেলেট গান বা ছররা বন্দুক (Pellet Gun) নিষিদ্ধ করার আবেদন সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। যদিও আবেদনকে গুরুত্ব দিলেন না প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। বরং প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে পুলিশের পেলেট গান ব্যবহারের ক্ষমতা রয়েছে।
পেলেট গান ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞার আবেদন করে সুপ্রিমকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার যশবর্ধন আজাদ। পাশাপাশি পেলেট গানে আহত দুই ব্যক্তি এই আবেদন করেন। এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে পেলেট গান নিষিদ্ধ করার আর্জির শুনানি চলছিল। সেখানে মামলাকারীর আবেদনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “যদি লাঠিচার্জ এবং টিয়ার গ্যাস দিয়ে কোনও বিক্ষোভকে নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে পেলেট গান ব্যবহারের উপর কীভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যেতে পারে?”
শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “আপনাদের আর্জি, পেলেট গান ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে পুলিশি বিধিতে পেলেট গান ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। যদি সত্যিই আপনারা পেলেট গান ধাপে ধাপে তুলে দিতে চান, তাহলে সেই আইনি বিধানটিকেই সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী বলে চ্যালেঞ্জ করতে হবে।”
এরপর সুপ্রিম কোর্ট এই মামলায় কেন্দ্র সরকার এবং র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)-এর ইন্সপেক্টর জেনারেলকে নোটিস জারি করে। একইসঙ্গে আদালত নির্দেশ দেয়, ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে মোতায়েন থাকা র্যাফ (RAF) জওয়ানদের ব্যবহৃত গুলির হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে।
আবেদনকারীদের দাবি ছিল, এই অস্ত্রগুলিকে যদিও ‘কম প্রাণঘাতী’ (Less Lethal) বা ‘প্রাণঘাতী নয়’ (Non-Lethal) বলে বর্ণনা করা হয়, কিন্তু কাছ থেকে জনতার দিকে গুলি চালালে, তা প্রাণঘাতী বা গুরুতর আঘাত লাগতে পারে। বিশেষ করে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ২০ জুলাইয়ের ঘটনায় ১৯ বছরের সাহিল লোছাব-এর চোখে গুরুতর আঘাতের উদাহরণ তুলে ধরে আবেদনকারীরা বলেন, সাধারণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে এই অস্ত্র ব্যবহার কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা এই ঘটনাই প্রমাণ করে।
আবেদনকারীরা আরও বলেন, রাষ্ট্রপুঞ্জের (United Nations) অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, জনতার বিরুদ্ধে এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা উচিত নয়। একই সঙ্গে সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশ, যন্তর মন্তরের ঘটনায় পুলিশকে অস্ত্রের রেকর্ড (ammunition log) সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি ঘটনায় আহতদের উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।



