Man killed himself, blames wife in Santipur

দাম্পত্য কলহ! স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব। স্ত্রীকে দায়ী করে ভয়েস মেসেজ। তারপরই ঘর থেকে উদ্ধার যুবকের ঝুলন্ত দেহ। পরিবারের অভিযোগ, অশান্তির জন্য আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন যুবক। অভিযোগ, আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়েছেন স্ত্রী। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার শান্তিপুর থানার বেলঘড়িয়া-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে এলাকায়। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য এলাকায়।
মৃতের নাম রাজা প্রামাণিক। বয়স ২৯ বছর। তিনি শান্তিপুরের ঘোড়ালিয়া জলপরী এলাকার বাসিন্দা। বছর সাত আগে হবিবপুর এলাকার এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। দম্পতির একটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর সংসারের আর্থিক টানাপোড়েনের জেরে ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করত যান রাজা। স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণের জন্য প্রতি মাসেই টাকা পাঠাতেন তিনি।
এমনকী ভিন্রাজ্যে উপার্জিত অধিকাংশ অর্থ স্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেই জমা করতেন। তবে দাম্পত্য স্বাভাবিক ছিল না বলেই দাবি আত্মীয়দের। শ্বশুরবাড়িতে থাকার বদলে স্ত্রী দীর্ঘদিন বাপের বাড়িতেই থাকতেন। রাজা বাড়ি ফিরলে অল্প সময়ের জন্য দেখা করতেন। টাকা নিয়ে চলে যেতেন বলেও অভিযোগ পরিবারের। দূরত্ব মেটাতে ভিনরাজ্যের কাজ ছেড়ে দেন রাজা। বছরখানেক আগে শান্তিপুরে ফিরে সঞ্চিত অর্থ দিয়ে জমিজমা কেনাবেচার ব্যবসা শুরু করেন রাজা।কিন্তু তাতেও স্বামী-স্ত্রীর দূরত্ব কমেনি। পরিবার সূত্রের দাবি, স্ত্রী একসঙ্গে সংসারও করেননি, আবার আইনিভাবে বিচ্ছেদের উদ্যোগও নেননি।
পরিবারের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে হোয়াটসঅ্যাপে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘক্ষণ কথোপকথন ও ভয়েস মেসেজ আদানপ্রদান হয় বলে। অভিযোগ, সেই সময় অশান্তি চরমে ওঠে। স্ত্রী আত্মহত্যার প্ররোচনা দেন। এরপর রাজা একটি ভয়েস মেসেজে নিজের মৃত্যুর জন্য স্ত্রীকে দায়ী করে বার্তা পাঠান। ওই মেসেজ পাঠানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি ঘরের ভিতরে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন বলে অভিযোগ।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশে। শান্তিপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে দেহ উদ্ধার করে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক রাজাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য রানাঘাট পুলিশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ভয়েস মেসেজ, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ও অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
শেয়ার
লিংক



