অবশেষে ‘কয়লার দাগ’ ধুয়ে সাফ! মৃত্যুর ২ বছর পর কলঙ্কমুক্ত হলেন মনমোহন সিং

AK Bangla Desk: “সমকালীন সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিরোধীদের চেয়ে ইতিহাস আমার প্রতি অনেক বেশি সহৃদয় হবে”, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন নিজের শেষ সাংবাদিক সম্মেলনে এই ঐতিহাসিক বার্তা দিয়েছিলেন দূরদর্শী অর্থনীতিবিদ ডঃ মনমোহন সিং। সময় যত গড়াচ্ছে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সেই ভবিষ্যদ্বাণী যেন অক্ষরে অক্ষরে সত্যি বলে প্রমাণিত হচ্ছে। কমনওয়েলথ গেমস কিংবা টু-জি কেলেঙ্কারির মতো একাধিক বিতর্কিত অভিযোগের মেঘ কেটে যাওয়ার পর, এবার বহুল আলোচিত ‘কোলগেট’ বা কয়লা ব্লক বণ্টন মামলা থেকেও সম্পূর্ণ ক্লিনচিট পেলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।
২০১২ সালে ইউপিএ-২ সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে ওড়িশার তালাবিরায় অবৈধভাবে কয়লা ব্লক বণ্টনের অভিযোগ ঘিরে সারা দেশ উত্তাল হয়ে উঠেছিল। তৎকালীন কয়লামন্ত্রী, কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ আমলাদের পাশাপাশি দুর্নীতির অভিযোগের সরাসরি তির গিয়েছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের দপ্তরের দিকে। রাজনৈতিক জীবনের সায়াহ্নে এসে এই একটিমাত্র কয়েলা কেলেঙ্কারিই ছিল তাঁর নিষ্কলঙ্ক ভাবমূর্তির গায়ে একমাত্র দুর্নীতির দাগ। এমনকি নিম্ন আদালত তাঁকে অভিযুক্ত হিসেবে তলবও করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে দীর্ঘ তদন্ত চালিয়ে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিবিআই) জানায়, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে অভিযুক্ত করার মতো কোনও উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ মেলেনি। ফলে নিজেদের চূড়ান্ত ‘ক্লোজার রিপোর্টে’ ডঃ সিংকে অভিযুক্তের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
অবশেষে সিবিআই-এর সেই ক্লোজার রিপোর্ট গ্রহণ করে ঐতিহাসিক রায় দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সিবিআইয়ের দেওয়া ক্লোজার রিপোর্ট বাতিল বা খারিজ করার মতো কোনও শক্ত প্রমাণ আদালতের সামনে নেই। প্রধান বিচারপতি আরও পর্যবেক্ষণ করেন, এই মামলাটি নিম্ন আদালতেই শেষ হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ সালে প্রয়াত হয়েছেন, ফলে এই মামলা চালানো এমনিতেও অর্থহীন।
সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের পর আনুষ্ঠানিকভাবে সব ধরণের অভিযোগ থেকে রেহাই পেলেন মনমোহন সিং। জীবদ্দশায় যে রাজনৈতিক অপবাদ ও কাদা ছোড়াছুড়ির সম্মুখীন তাঁকে হতে হয়েছিল, মৃত্যুর দুই বছর পর শীর্ষ আদালতের আইনি সিলমোহরে সেই কয়লার দাগ ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গেল। নিরপেক্ষ ইতিহাস ও সময়ের কষ্টিপাথরে ডঃ মনমোহন সিং আবারও একজন সৎ ও নিষ্কলঙ্ক রাষ্ট্রনায়ক হিসেবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন।



