হাই কোর্টের রায়ের পরই সুপ্রিম কোর্টে অভিষেক!বিদেশযাত্রার অনুমতি চেয়ে আর্জি

AK Bangla Desk: চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে একই আবেদন নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে গিয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তবে তাঁকে প্রাথমিকভাবে এসএসকেএম হাসপাতালে চোখের পরীক্ষা করিয়ে সেই রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতেই হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে আবেদন করেছেন তিনি। সূত্রের খবর, আগামী সোমবার সুপ্রিম কোর্টে মামলাটির শুনানি হতে পারে। আবেদনে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক দাবি করেছেন, হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে তিনি তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করছেন। সংশ্লিষ্ট মামলায় ইতিমধ্যেই কণ্ঠস্বরের নমুনাও দিয়েছেন। তারপরেও চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি না মেলায় সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।
এর আগে অমিত শাহ সম্পর্কে ‘অপমানজনক’ মন্তব্যের অভিযোগে অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় তাঁর বিদেশযাত্রার উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। একই সঙ্গে তাঁকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচও দেওয়া হয়েছিল।গত ২৯ জুলাই চোখের চিকিৎসার জন্য আমেরিকা যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন অভিষেক। কিন্তু সেই আবেদন মঞ্জুর করেননি বিচারপতি। শুনানির সময় আদালত প্রশ্ন তোলে, বিদেশে গিয়েই কেন চিকিৎসা করাতে হবে। কলকাতায় চোখের চিকিৎসার জন্য একাধিক উন্নত হাসপাতাল রয়েছে এবং প্রয়োজনে এসএসকেএম হাসপাতালেই তাঁর চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন বিচারপতি। অভিষেকের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য ও সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের ওই অবস্থানের বিরোধিতা করেন। তাঁদের দাবি, অভিষেকের শারীরিক পরিস্থিতি এবং পূর্ববর্তী চিকিৎসার ইতিহাস বিবেচনা করেই বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
আদালত অবশ্য জানিয়েছিল, আবেদনকারীর চিকিৎসায় কোনও সমস্যা হোক, তা তারা চায় না। তাই প্রথমে এসএসকেএম হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করিয়ে মেডিক্যাল রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়। সেই রিপোর্ট পর্যালোচনা করেই বিদেশযাত্রার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছিল হাই কোর্ট। তার আগেই বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী সোমবার শীর্ষ আদালত তাঁর আবেদনে কী নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও আইনি মহলের।



