দলীয় কার্যালয় নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত! পালা করে মেট্রোপলিটন ভবনে বসবেন ঋত শিবিরের তৃণমূল নেতারা

বাংলা হান্ট ডেস্ক : তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) অন্দরের রাজনৈতিক লড়াই এবার পৌঁছে গেল দলের একসময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ে। দীর্ঘদিন ধরে মেট্রোপলিটনের যে ভবন থেকে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হত, সেই ঠিকানাই এবার নতুন করে দখলে নিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘নব তৃণমূল ব্লক’ (Ritabrata Banerjee)। কালীঘাটপন্থী শিবির ভবন ছেড়ে দেওয়ার পর সেখানে নিজেদের সাংগঠনিক কার্যকলাপ শুরু করার প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করেছে নতুন নেতৃত্ব।
কোথায় বসবে ‘নব তৃণমূল ব্লক'(Trinamool Congress) ?
বুধবার বিকেলে ওই কার্যালয়েই বৈঠকে বসেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা, জাভেদ আহমেদ খান, অরূপ বিশ্বাস-সহ দলের একাধিক নেতা। আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, ভবিষ্যতে এই ভবন থেকেই নিয়মিত সাংগঠনিক কাজ পরিচালিত হবে। সেই উদ্দেশ্যে একটি রোস্টার তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিদিন দলের কোনও না কোনও বিধায়ক বা পদাধিকারী সেখানে উপস্থিত থাকবেন।
নতুন কার্যালয় নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা এবার থেকে এখানেই বসব। সবটা পরে জানানো হবে। রস্টার অনুযায়ী এখানে বসব।” এরপর তিনি আরও বলেন, “আমাদের ভবন। আমরা আসব, বসব। আমাদের জায়গায় অন্য কেউ আসবে? অন্য কেউ তো বসবেন না।”
একসময় এই মেট্রোপলিটন ভবনই ছিল অবিভক্ত তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান সাংগঠনিক কেন্দ্র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির পরিকল্পনা—সবই পরিচালিত হত এই ঠিকানা থেকে। কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদলের পর দলের অভ্যন্তরে বিভাজন তৈরি হওয়ায় সেই পুরনো সমীকরণ ভেঙে যায়। এরপর থেকেই কার্যালয়টির দখল নিয়ে দুই শিবিরের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়।

আরও পড়ুন : যোগ্য হয়েও টাকা পাননি? অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে এবার বাড়ি বাড়ি পৌঁছবে বিজেপি মহিলা মোর্চা
জুলাই মাসে কালীঘাটপন্থী শিবির ভবনটি ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর আর সময় নষ্ট করেনি ঋতব্রতপন্থী শিবির। এখন থেকে মেট্রোপলিটনের এই ভবনই তাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার সমীকরণে নতুন বার্তারও ইঙ্গিত বহন করছে। আগামী দিনে এই কার্যালয়কে কেন্দ্র করে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড কতটা বিস্তৃত হয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।




