“আমি কোনও ভোজবাড়িতেই যাই না!”, টুলু মণ্ডলের সঙ্গে নাম জড়াতেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন অনুব্রত

AK Bangla Desk: বীরভূমের রাজনীতি থেকে শুরু করে ব্যবসার অলিগলি, সাম্প্রতিক একাধিক বিতর্কিত ঘটনায় বারবার উঠে আসছে ‘পাথরসম্রাট’ হিসেবে পরিচিত টুলু মণ্ডলের নাম। আর প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর নামের পাশে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের ‘ঘনিষ্ঠ’ তকমা। ক্রমাগত এই ধরনের তথ্য ও জল্পনা সামনে আসায় মারাত্মক বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ অনুব্রত মণ্ডল। শেষ পর্যন্ত মুখ খুলে বিষয়টি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানোর পাশাপাশি অহেতুক নাম জড়ালে মানহানির মামলা করার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কেষ্ট।
অনুব্রত অনুযোগের সুরে বলেন, “বীরভূমে যা-ই ঘটছে, বলা হচ্ছে তাঁরা নাকি অনুব্রত ঘনিষ্ঠ! আমি যখন দীর্ঘদিন জেলার সভাপতি ছিলাম, তখন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে অনেকেই দলের কাজে বা বিভিন্ন প্রয়োজনে আমার কাছে আসতেন। তাই বলে তাঁরা সকলেই আমার ঘনিষ্ঠ হয়ে গেল?” তিনি আরও যোগ করেন, “টুলু মণ্ডলের মেয়ের বিয়েতে জেলা ও রাজ্যের বহু মানুষ গিয়েছিলেন। কিন্তু আমি তো যাইনি! আমি এমনিতেও কোনও ভোজবাড়িতে খাই না বা যাই না।” যে বা যাঁরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টুলু মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর নাম জড়াচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন তিনি।
যদিও অনুব্রত ঘনিষ্ঠতার সমস্ত তত্ত্ব একঝটকায় উড়িয়ে দিয়েছেন, তবুও স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে জোর আলোচনা রয়েছে টুলুর এই উল্কাগতিতে উত্থানের নেপথ্য কাহিনি নিয়ে। অতি সাধারণ পরিবার থেকে আসা টুলু মণ্ডল একসময় দিনমজুরির কাজ করতেন। সেখান থেকে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে লরিতে পাথর চাপানোর ইজারা নেন তিনি। নিজের জমানো টাকায় প্রথমে কয়েকটি লরি কিনে শুরু করেন পাথর পরিবহণের ব্যবসা। ধীরে ধীরে আর্থিক স্বচ্ছলতা আসার পর, ২০১৬ সাল নাগাদ অনুব্রতের স্নেহধন্য হয়ে সোঁতশাল-সহ একাধিক ডিসিআর টোল গেট পরিচালনার দায়িত্ব পান তিনি। এরপর আর তাঁকে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি, দিনমজুর থেকে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে ওঠেন তিনি।
বর্তমানে সেই বিতর্কিত পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের কোনও খোঁজ মেলেনি। সূত্রের খবর, তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং পুলিশ তাঁর সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে।



