‘কী করে এতদিন ধরে..’ ইডির জেরার পর বিস্ফোরক মদন মিত্র, কী বললেন ?

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজনীতি তাঁকে দিয়েছে পরিচিতি, ক্ষমতা, জনপ্রিয়তা এবং দীর্ঘ জনজীবনের অভিজ্ঞতা। কিন্তু এত বছরের পথচলার শেষে এসে সেই রাজনীতির প্রতিই যেন তীব্র অনীহা প্রকাশ করলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra)। শুধু বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষই নয়, নিজের পেশা নির্বাচন নিয়েও আক্ষেপ শোনা গেল তাঁর কণ্ঠে। রাজনৈতিক মহলের মতে, একজন সক্রিয় বিধায়কের মুখে এমন অকপট স্বীকারোক্তি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
রাজনীতি নিয়ে কেন অনীহা প্রকাশ মদনের (Madan Mitra)?
সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ঘটনার জেরে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন মদন মিত্র। রাজনৈতিক অবস্থান বদলের পর থেকেই তাঁকে ঘিরে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। এরই মধ্যে ইডি তাঁর এবং পরিবারের কয়েকজন সদস্যের নামে নোটিস পাঠায়। বুধবার দীর্ঘ সময় ধরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ব্যক্তিগত অনুভূতি থেকে শুরু করে বর্তমান রাজনীতির পরিবেশ—সবকিছু নিয়েই খোলামেলা মন্তব্য করেন তৃণমূলের এই বর্ষীয়ান নেতা।
তাঁর বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি উঠে আসে সমাজে রাজনীতিকদের মর্যাদা কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ। মদন মিত্রের দাবি, একসময় সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রতিনিধিদের আলাদা সম্মান ছিল। মদন মিত্রের কথায়, “আগে বিয়েবাড়িতে ডাকলে শোভা বাড়ত। মানুষ দেখলে প্রণাম করত, গায়ে হাত দিয়ে আশীর্বাদ করত। এখন আর বিয়েবাড়িতেও নিমন্ত্রণ করে না। রাজনৈতিক মূল্যবোধ অনেক নীচে নেমে গিয়েছে।”
সমাজে রাজনীতির বদলে যাওয়া অবস্থান নিয়েই থেমে থাকেননি তিনি। নিজের জীবন নিয়েও অকপট আত্মসমালোচনা করেন মদন মিত্র। তিনি বলেন, “এখন মনে হয়, সাংবাদিকতা করতে পারতাম, প্রফেসারি করতে পারতাম, তাহলে হয়তো ভালো হত। যত দিন যাচ্ছে, রাজনীতির প্রতি ঘৃণা বোধ করছি। ভাবি, কী করে এতদিন ধরে রাজনীতি করে গেলাম!” নির্বাচনে জয় না পেলে তিনি রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলেও জানান। এখনও সেই ভাবনা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি বলে স্বীকার করেন মদন মিত্র।

আরও পড়ুন :‘গ্রান্ট ইন এইড, কর্মচারীদের বকেয়া DA..,’ মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে পাল্টা ৪% মহার্ঘ ভাতা নিয়ে প্রশ্ন
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে একাধিক প্রবীণ নেতা পরাজিত হলেও কামারহাটি কেন্দ্র থেকে জয় ধরে রাখতে সক্ষম হন মদন মিত্র। ফলে রাজনৈতিকভাবে তিনি এখনও গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবেই বিবেচিত। তবে তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্য স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ক্ষমতার রাজনীতির বাইরেও ব্যক্তিগত স্তরে তিনি গভীর মানসিক ক্লান্তি এবং হতাশার মধ্যে রয়েছেন। আগামী দিনে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান কিংবা ভবিষ্যৎ ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে এখন থেকেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে।




