0%

নিকট আত্মীয় না হলেও কিডনি দান করা যায়, বড় রায় কলকাতা হাই কোর্টের

নিকট আত্মীয় না হলেও স্বেচ্ছায় কিডনি দান করা বেআইনি নয়। সম্পর্কের সমস্ত প্রমাণ কাগজে-কলমে থাকে না। কিডনি প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় এমনই পর্যবেক্ষণ করে বড় রায় দিল কলকাতা হাই কোর্ট। আদালত বাড়ির প্রাক্তন গাড়িচালকের স্ত্রীর কিডনি দানে আরোপিত বাধা সরিয়ে দিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কমিটির সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাও বলেন, বন্ধুত্ব বা দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পর্ক সব সময় নথির মাধ্যমে প্রমাণ করা সম্ভব নয়। যদি অর্থের লেনদেনের কোনও প্রমাণ না থাকে এবং কিডনি দান সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় হয়, তবে শুধুমাত্র সম্পর্কের নথি না থাকার কারণে কিডনি প্রতিস্থাপনে বাধা দেওয়া যায় না।

– বিজ্ঞাপন –

কী এই মামলা?

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলাকারী সুনীতা খাঁড়ার স্বামী চিন্টু খাঁড়ার দু’টি কিডনিই কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তাঁকে বাঁচাতে অবিলম্বে কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন।

কিন্তু পরিবারের কোনও নিকট আত্মীয় কিডনি দিতে রাজি না হওয়ায় এগিয়ে আসেন রূপা সাহা নামে এক মহিলা। তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হলফনামা দিয়ে জানান, কোনও অর্থের বিনিময়ে নয়, শুধুমাত্র এক অসুস্থ মানুষের জীবন বাঁচানোর উদ্দেশ্যেই তিনি কিডনি দান করতে চান।

কেন আপত্তি জানিয়েছিল অথরাইজেশন কমিটি?

অনাত্মীয় ব্যক্তির কিডনি দানের ক্ষেত্রে সরকারি অথরাইজেশন কমিটি অনুমোদন দেয়। কিন্তু ওই কমিটি আবেদন খারিজ করে জানায়, দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে সম্পর্কের পর্যাপ্ত নথি নেই। তাঁরা পারিবারিক বন্ধু—এমন দাবিরও নথিভিত্তিক প্রমাণ জমা পড়েনি।

শুনানির সময় বিচারপতি কৃষ্ণ রাও রূপা সাহার ভিডিও রেকর্ডিং দেখতে চান। সেখানে রূপা জানান, তাঁর স্বামী ২০১৪-১৫ সাল থেকে রোগীর বাড়িতে গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন। সেই সূত্রে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একে অপরের বাড়িতে যাতায়াত ছিল এবং পারিবারিক অনুষ্ঠানেও দুই পরিবার অংশ নিত।

বিজ্ঞাপন

আদালতের পর্যবেক্ষণ

হাই কোর্টের মতে, অথরাইজেশন কমিটি এই বাস্তব সম্পর্কের দিকটি যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। শুনানিতে রূপা আরও জানান, প্রেমানন্দ মহারাজের উপদেশে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে কিডনি দান করতে চান।

এর পরেই আদালত কমিটির আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়।

বিচারপতি কৃষ্ণ রাও বলেন,
“অথরাইজেশন কমিটির মূল দায়িত্ব হল অর্থের লেনদেন বা কিডনি কেনাবেচার মতো বেআইনি বিষয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা। কিডনি দান স্বেচ্ছায় হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা তাদের কাজ। কিন্তু সম্পর্কের নথি নেই বলে একটি জীবন বাঁচানোর পথে বাধা সৃষ্টি করা উচিত নয়।”

এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন সিদ্ধান্তের নির্দেশ

হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, এক সপ্তাহের মধ্যে অথরাইজেশন কমিটিকে নতুন করে আবেদন বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এই মামলায় সুনীতা খাঁড়ারের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী অরিত্র বসু এবং মৈত্রেয়ী রায়

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker