আমূল বদলে যাবে প্রথম থেকে দ্বাদশের সিলেবাস! কী থাকবে আর কী থাকছে না জানিয়ে দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

AK Bangla Desk: রাজ্যে বিজেপির সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই স্কুলের পাঠ্যসূচি বদল নিয়ে চর্চা চলছিল জোরকদমে। অবশেষে সেই জল্পনায় সিলমোহর দিয়ে বিকাশ ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে সিলেবাস পরিবর্তন নিয়ে ঐতিহাসিক আপডেট দিলেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যের প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সমস্ত ক্লাসের পাঠ্যসূচিতে আসতে চলেছে আমূল পরিবর্তন। কেন্দ্রীয় জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP 2020) মেনেই ঢেলে সাজানো হবে নতুন এই সিলেবাস। অর্থাৎ, পড়াশোনা শেষ করেই যেন পড়ুয়ারা স্বনির্ভর হতে পারে, সেই চাকরিমুখী ও বাস্তবিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।
কবে থেকে কার্যকর হবে এই নতুন পাঠ্যসূচি? বিকাশ ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী দীপক বর্মন জানান, “বিগত জমানায় এই রাজ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি চালু করা হয়নি। কিন্তু বর্তমান সরকার তা দ্রুত কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর। তবে এর জন্য কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্কুলের সিলেবাসে বড় ধরনের কোনও পরিবর্তন না করে কেবল প্রয়োজনীয় কিছু পরিমার্জন করা হবে। ২০২৮ সালের শিক্ষাবর্ষ থেকে একেবারে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সমস্ত ক্লাসের সিলেবাস ও বই আমূল বদলে যাবে। সেই মেগা পরিবর্তনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।”
কোন কোন অধ্যায় বাদ পড়বে আর কোনটাই বা নতুন করে যুক্ত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত খোলসা না করলেও শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, সিলেবাস কমিটির সুপারিশ ও পরামর্শ মেনেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে শিক্ষা মহলের ধারণা, নতুন এই পাঠ্যসূচি হতে চলেছে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রবাদী ও ঐতিহ্য কেন্দ্রিক। মোঘল বা ইসলামিক ইতিহাসের একাধিক অধ্যায় পাঠ্যবই থেকে ছেঁটে ফেলা হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে কেন্দ্র জাতীয় শিক্ষানীতি পাশ করলেও তৎকালীন তৃণমূল সরকার তা রাজ্যে লাগু করতে অনীহা প্রকাশ করেছিল। নতুন এই নীতি অনুযায়ী, বইয়ের চাপ কমানোর পাশাপাশি স্কুল স্তরেই সেমিস্টার পদ্ধতি চালু হবে। বাংলার স্বকীয় শিক্ষা পরিকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এমন এক বাস্তবমুখী শিক্ষা চালু হতে চলেছে, যা আগামী দিনে পড়ুয়াদের কর্মসংস্থানে সরাসরি সাহায্য করবে।



