রাজনৈতিক দল গড়ছে CJP? ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মুখ খুললেন অভিজিৎ দিপকে

বাংলা হান্ট ডেস্ক : ছাত্র আন্দোলনের সূত্র ধরে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসা ককরোচ জনতা পার্টি ভবিষ্যতে কোন পথে এগোবে এই নিয়ে চর্চা চলছে সবর্ত্র। সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন কি থামবে, নাকি আরও বিস্তৃত হবে? সম্প্রতি চলতে থাকা এই সব প্রশ্নেরই খোলামেলা জবাব দিলেন ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janata Party) সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে।
কী জানালেন ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ?
প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কেন্দ্রের আনা সংশোধনী আইন নিয়ে সন্তুষ্ট নন অভিজিৎ। তাঁর মতে, আইনটি অপরাধ ঠেকানোর চেয়ে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেই দিকেই বেশি জোর দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিলটি প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধের পরিবর্তে, ফাঁসের পরে নেওয়া পদক্ষেপগুলির উপর বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।’
আন্দোলনের চরিত্র ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, এই লড়াই কোনও রাজনৈতিক দলের উদ্যোগে তৈরি হয়নি। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল। সরকারের সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিজিৎ। তাঁর বক্তব্য, শুধু ঘোষণা করলেই হবে না, বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটতে হবে। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী একটি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের কথা বলেছিল। কিন্তু CBI-এর অনুপস্থিতির কারণে প্রথম শুনানিই স্থগিত হয়ে যায়। উদ্দেশ্য যদি দৃঢ় না হয় তবে যতই আইন পাস হোক না কেন, কিছুই হবে না।’
আন্দোলন এখানেই থেমে যাবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে অভিজিৎ স্পষ্ট বলেন,’একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ হওয়ায় জনগণের ক্ষোভ প্রশমিত হয়েছে, এমনটা ভাবা ভুল হবে সরকারের। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হয়রান করা শেষ না হলে আমাদের আবার রাস্তায় নামা ছাড়া উপায় থাকবে না।’ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির সমর্থনের প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন CJP-র প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর বক্তব্য, ‘রাজনৈতিক দল আমাদের সমর্থন করেছিল। কিন্তু, তারা তাদের রাজনীতি করেছে। আমাদের আন্দোলনে প্রতিদিন ৭০-৮০ শতাংশ মানুষ এসেছিলেন, যারা প্রথমবার এমন কোনও প্রতিবাদে সামিল হন।’
রাজনৈতিক দল গঠনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘আমরা কোনও রাজনৈতিক দল গড়ব না। এটা একটা রেসপন্স গ্রুপ। যারা আগামী নির্বাচন পর্যন্ত আলাদা আলাদা ইস্যু নিয়ে কাজ করবে। যুব সম্প্রদায়ের কণ্ঠস্বর হয়ে কথা বলবে ককরোচ জনতা পার্টি।’

আরও পড়ুন : হাসপাতালে আর ইচ্ছেমতো মোবাইল ব্যবহার নয়! কড়া নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
ছাত্রদের দাবি ঘিরে শুরু হওয়া আন্দোলন আপাতত থামছে না—অভিজিৎ দিপকের বক্তব্যে সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট। একইসঙ্গে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, CJP নির্বাচনী রাজনীতিতে না নামলেও বিভিন্ন জনস্বার্থের ইস্যুতে আন্দোলনের পথে সক্রিয় থাকবে। ফলে আগামী দিনে সংগঠনটির ভূমিকা এবং সরকারকে ঘিরে তাদের অবস্থান, দুই-ই জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।




