0%

অভাবে ত্রিপুরা ছেড়ে উত্তরপ্রদেশে চাকরি! কমনওয়েলথে সোনা জয় দেশবাসীকে উৎসর্গ অস্মিতার

গ্লাসগোতে কমনওয়েলথ স্বর্ণপদক জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন ভারতীয় তথা ত্রিপুরার বিলোনিয়া দক্ষিণ সোনাইছড়ির জুডোকা অস্মিতা দে। মহিলাদের ৪৮ কেজি ফাইনাল ম্যাচে কানাডার হাইডি কুয়াচকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে দেশের হয়ে প্রথম কমনওয়েলথ গেমস জুডো স্বর্ণপদক জয় করেন অস্মিতা দে। এই অসাধারণ সাফল্যের পর অস্মিতার সঙ্গে সংবাদ প্রতিদিন-এর তরফে কথা বললেন প্রণব সরকার।

প্রণব সরকার: অস্মিতা সংবাদ প্রতিদিন-এ তোমাকে স্বাগত। কেমন আছো?
অস্মিতা: ভালো আছি স্যর।
প্রণব সরকার: কীরকম লাগছে স্বর্ণপদক জিতে?
অস্মিতা: ভালোই লাগছে। আজ আমি অনেক খুশি।
প্রণব সরকার: তুমি বিলোনিয়ায় কত বছর ছিলে?
অস্মিতা: ২০০৬ সালে বিলোনিয়া থেকে আগরতলা এসে আমি স্পোর্টস স্কুলে ভর্তি হই। বিলোনিয়াতে থাকাকালীন প্রায় ২ বছর জুডো করেছিলাম। তারপর আগরতলা স্পোর্টস স্কুলে ছিলাম। আগরতলা স্পোর্টস স্কুল থেকে মাঝেমাঝে বিলোনিয়াতে গিয়েছি। ২০১৮ সালে উত্তরপ্রদেশের ভোপালে চলে যাই। বর্তমানে সেখানেই ট্রেনিং করছি।

স্বর্ণপদক জয়ী জুডোকা অস্মিতা দে।

প্রণব সরকার: তুমি উত্তরপ্রদেশ কেন গিয়েছিলে?
অস্মিতা: ২০১৮ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত আমার কাছে কোন জব ছিল না। ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড ভালো ছিল না, (কথা বলতে গিয়ে আটকে গিয়ে) স্যর আম হিন্দিতে বলব।
প্রণব সরকার: হ্যাঁ হ্যাঁ, বলো কোনও অসুবিধা নেই।
অস্মিতা: কোনও উপায় না পেয়ে উত্তরপ্রদেশের চাকরিটা নিতেই হয়েছিল। এই চাকরি নেওয়ার পর তাঁদের শর্ত ছিল উত্তরপ্রদেশ রাজ্য থেকেই জুডো খেলতে হবে। তবে তার জন্য একটা এনওসি প্রয়োজন। এনওসি না নিলে যে কোন মেডেল জিতলেও চাকুরির ক্ষেত্রে প্রমোশন পাওয়া যেত না। পরবর্তী সময়ে ত্রিপুরা থেকে এনওসি আমাকে বাধ্য হয়ে নিতে হয়েছে। উত্তরপ্রদেশে আমি পুলিশের কনস্টেবল পদে নিযুক্ত হই। প্রোমোশনের প্রয়োজন ছিল কারণ, কনস্টেবল পদে আমার সারাজীবন চলতো না। যখন জুডো খেলা শুরু করি তার দুবছর পর উত্তরপ্রদেশ পুলিশ আমায় প্রোমোশন দেয়। আমার পদ ছিল সাব-ইন্সপেক্টর। (একটু হেসে) এখন আমার ডিএসপি ব়্যাঙ্ক এসে যাবে।
প্রণব সরকার: এখন তুমি কোথায় আছো?
অস্মিতা: বর্তমানে আমি গ্লাসগোতেই আছি।

স্বর্ণপদক জয়ী জুডোকা অস্মিতা দে।

প্রণব সরকার: স্বর্ণপদক পেয়েছো, এবার দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তোমার বার্তা কী?
অস্মিতা: এই স্বর্ণপদক আমি দেশবাসীর জন্যই উৎসর্গ করছি। কারণ, আমার দেশ ভারত এই মেডেল ডিজার্ভ করে। আসলে এই ধরনের খেলাধুলা ইংরেজদেরকেই মানাতো। কিন্তু ভারত বর্তমানে সবদিকে এগিয়েছে। আমরা যদি তাদেরকে পরাজিত করে এগিয়ে যেতে না পারি তাহলে খেলাধুলা করে কী লাভ? তাই এই স্বর্ণপদক জয় আমার নিজের এবং দেশের জন্য জরুরি ছিল। আমি এটাই বলতে চাইব দেশবাসী আমাকে প্রচণ্ড সাপোর্ট করেছে। এই দেশবাসীর জন্যই আজ আমি এখানে।
প্রণব সরকার: ধন্যবাদ। তোমার সঙ্গে পরে কথা হবে।
অস্মিতা: অনেক ধন্যবাদ স্যর।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker