শত্রুদের হবে খেল খতম! ভারতকে শক্তিশালী করবে দুর্ধর্ষ ড্রোন সিস্টেম, মেগা পরিকল্পনা DRDO-র

সবদিক নিউজ: সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সামরিক দিক থেকে ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে ভারত। ঠিক এই আবহেই ভারত এক নতুন ধরণের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে। মূলত, ভারত ড্রোন যুদ্ধের ওপর মনোযোগ দিয়েছে। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা তথা DRDO (Defence Research and Development Organisation) এখন এমন একটি ড্রোন ব্যবস্থা তৈরি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা শত্রুর পক্ষে জ্যাম করা অসম্ভব হবে। এই প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডেভেলপমেন্ট অফ ক্লোজ ফর্মেশন ফ্লাইং অফ মাল্টিপল ড্রোনস’। ইতিমধ্যেই DRDO অত্যাধুনিক সামরিক ড্রোন প্রযুক্তি বিকাশের জন্য স্টার্টআপ এবং MSME-দের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। DRDO ৫০টি পর্যন্ত ‘জ্যাম-প্রুফ’ ড্রোনের বহর তৈরির জন্য প্রস্তাব আহ্বান করেছে। যেগুলিকে ‘স্লেভ ড্রোন’ বলা হয় এবং এগুলি একে অপরের থেকে মাত্র আধ মিটার দূরত্ব বজায় রেখে নির্ভুলভাবে উড়তে পারে।
DRDO (Defence Research and Development Organisation)-র নতুন প্রকল্প:
মিডিয়া রিপোর্ট অনুসারে, এই প্রকল্পটি DRDO-র ‘টেকনোলজি ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’ প্রকল্পের অধীনে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হল দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির প্রসার ঘটানো এবং স্টার্টআপগুলিকে উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া। জানিয়ে রাখি যে, ‘ডেভেলপমেন্ট অফ ক্লোজ ফর্মেশন ফ্লাইং অফ মাল্টিপল ড্রোনস’ প্রকল্পে কোনও সরকারি সংস্থা জড়িত নেই। বরং, এর লক্ষ্য হল প্রাথমিক স্তরের উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করা। ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক অটোনোমাস সিস্টেম এবং ড্রোন প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, ২০২৫ সালের মে মাসে সম্পন্ন হওয়া ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং সুনির্দিষ্ট হামলায় ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ওই অভিজ্ঞতা থেকে এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য একটি দেশীয়, সুরক্ষিত এবং অত্যন্ত সমন্বিত ড্রোন নেটওয়ার্কের প্রয়োজন হবে।
ইথানল মেশানো না হলে কত বাড়ত পেট্রোলের দাম? জানাল কেন্দ্র
এই ড্রোনগুলি কীভাবে কাজ করবে: উল্লেখ্য যে, DRDO-র নির্দেশিকা অনুসারে, এই ড্রোন বহরে একটি মাস্টার ড্রোন থাকবে যেটি অন্য ৪৯ টি ড্রোন পরিচালনা করবে। মাস্টার ড্রোনটি একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন থেকে নির্দেশ গ্রহণ করবে এবং একটি নির্দিষ্ট গ্রিডে থাকা সমস্ত ড্রোনকে পরিচালনা করবে। তবে, সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ হবে এটা নিশ্চিত করা, যাতে সমস্ত ড্রোন একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষ না করে স্থিতিশীল থাকে এবং মাত্র ৫০০ মিলিমিটার দূরত্বের মধ্যে উড়ত পারে। প্রতিটি ড্রোনকে সব দিকে সর্বোচ্চ ৫ সেন্টিমিটারের নির্ভুলতার সঙ্গে তার অবস্থান বজায় রাখতে হবে।
১৫.৪ শতাংশের বিপুল বৃদ্ধি! জুলাই মাসে ২.১১ লক্ষ কোটি টাকার GST আদায়, এগিয়ে কোন রাজ্য?
এই ড্রোনগুলির বিশেষত্ব: জানিয়ে রাখি যে, এই প্রকল্পটি ড্রোনগুলিকে অত্যন্ত কঠিন ভৌগোলিক ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও চলাচল করতে সক্ষম করবে। এছাড়াও, এই ড্রোনগুলি ৫,০০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত পার্বত্য অঞ্চলের ওপর দিয়ে উড়তে, বাতাসে এক জায়গায় স্থির থাকতে এবং নিরাপদে ফিরে আসতে পারবে। এগুলি প্রতি সেকেন্ডে ২০ মিটার পর্যন্ত গতির বাতাসেও স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, কমিউনিকেশন সিস্টেমে শত্রুপক্ষের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনার পরিপ্রেক্ষিতে, ড্রোনের জন্য অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং অ্যান্টি-ইলেকট্রনিক জ্যামিং কমিউনিকেশন সিস্টেম তৈরি করা অত্যন্ত প্রয়োজন হবে।




