0%

খুলল ‘ঐতিহাসিক’ নাথু-লা, বাণিজ্যপথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি ভারত-চিনের!

ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক পদক্ষেপ। শনিবার পূর্ব সিকিমের ১৪ হাজার ফুটেরও বেশি উঁচু নাথু-লা পাস দিয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক সীমান্ত বাণিজ্য ফের শুরু হল। কোভিড অতিমারির জেরে ওই প্রাচীন রুটে ছয় বছর বন্ধ ছিল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। এদিনের অনুষ্ঠানে ভারত ও চিনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কুটনৈতিক স্তরে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এদিনের ঘটনা উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সিকিমের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী টিটি ভুটিয়া এদিন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। প্রসঙ্গত, নাথু-লা পাস দিয়ে বাণিজ্য ১৯৬২ সালে ভারত-চিন যুদ্ধের পর চার দশকেরও বেশি সময় বন্ধ ছিল। ২০০৬ সালে এই বাণিজ্য পথ চালু হয়। মহামারীর কারণে ২০২০ সালে ফের বন্ধ করে দেওয়া হয়। সিকিমের এই সিল্ক রুট লাসা থেকে চুম্বি উপত্যকা ও নাথু-লা গিরিপথের মধ্য দিয়ে তাম্রলিপ্ত বন্দর অর্থাৎ অধুনা তমলুকে শেষ হয়েছে।

এদিন সিকিমের বাণিজ্য ও শিল্প দপ্তরের সচিব কর্মা ডোমা ইউতসো জানান, চলতি বছর ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাণিজ্য চলবে। দৈনিক ৬০টি পণ্য বোঝাই গাড়ি চলাচল করবে। ফলে বাণিজ্যের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পেরও উন্নতি হবে। নাথুলা বর্ডার ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অনিল কুমার গুপ্তার জানান, কোভিড-১৯ মহামারীর জেরে ২০১৯ সাল থেকে বাণিজ্য পথটি বন্ধ ছিল। এর আগে প্রায় ৪০০ ব্যবসায়ী সীমান্ত বাণিজ্যে অংশগ্রহণ করেছিল। এবারও সমসংখ্যক ব্যবসায়ীকে অনুমতি দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সিকিমের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী টিটি ভুটিয়া জানান, এটি চালু হওয়ায় সিকিমের প্রায় ৫০০ ব্যবসায়ী উপকৃত হবেন। সীমান্ত অর্থনীতি, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানকে চাঙ্গা করবে। প্রথাগতভাবে প্রতি বছর মে মাস থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত প্রায় ছয় মাস এই প্রাচীন সিল্ক রুটে বাণিজ্য চালু থাকে। এই পথেই তিব্বত থেকে ভারতে আসে কাঁচা রেশম, পশম, ইয়াকের লোম এবং মাটির তৈরি সামগ্রী। জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের আগস্টে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং চিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র মধ্যে অনুষ্ঠিত ‘বিশেষ প্রতিনিধি’ পর্যায়ের আলোচনার তিনটি নির্দিষ্ট গিরিপথ—সিকিমের নাথু-লা, হিমাচল প্রদেশের শিপকি-লা এবং উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ দিয়ে সীমান্ত বাণিজ্য পুনরুদ্ধারের বিষয়ে যে সমঝোতা হয়।

এরপর কূটনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করা এবং পরিকাঠামোগত বিষয়ে আলোচনার জন্য ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি ২০২৬ সালের ২৭ জুলাই চিন সফরে গিয়ে ওই দেশের উপমন্ত্রী সান হাইয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। কার্যত এরপরই চিন সীমান্ত দিয়ে বাণিজ্য পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয়ে যায়। 

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker