মানব অঙ্গ পরিবহণে ঐতিহাসিক সাফল্য: ‘লাইভ’ হৃদপিণ্ড নিয়ে রেকর্ড সময়ে গন্তব্যে বন্দে ভারত

AK Bangla 24×7 Digital: যাত্রী পরিবহণের পাশাপাশি এবার জীবন রক্ষার নতুন নজির গড়ে তুলল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বপ্নের ‘বন্দে ভারত’ এক্সপ্রেস। সুরাত থেকে এক ব্যক্তির দান করা ‘লাইভ’ বা সজীব হৃদপিণ্ড নিয়ে মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আমেদাবাদে পৌঁছাল ট্রেনটি। ভারতে এই প্রথম কোনো সজীব মানব অঙ্গ দ্রুত এক শহর থেকে অন্য শহরে নিয়ে যেতে ট্রেনের ব্যবহার করা হলো, যা ভারতীয় রেলের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব মাইলফলক।
মেডিক্যাল প্রোটোকল অনুযায়ী, সংগৃহীত হৃদপিণ্ড যত দ্রুত গ্রহীতার শরীরে প্রতিস্থাপন করা যায়, অস্ত্রোপচারের সাফল্যের সম্ভাবনা ততই বৃদ্ধি পায়। এই দৌড়ে জয়ী হতে সুরাত থেকে ছেড়ে সকাল ৮টা ৫৮ মিনিটে ট্রেনটি আমেদাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় এবং বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে পৌঁছায়। দ্রুত পরিবহণ নিশ্চিত করতে ভারতীয় রেল, আরপিএফ (RPF) এবং গুজরাট পুলিশ যৌথভাবে কাজ করে। ট্রেনটি প্ল্যাটফর্মে পৌঁছামাত্রই আমেদাবাদ স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ‘ইউ এন মেহতা ইনস্টিটিউট অফ কার্ডিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ পর্যন্ত এক বিশেষ গ্রিন করিডর তৈরি করা হয়, যার মাধ্যমে কোনো বাধা ছাড়াই সময়মতো অঙ্গটি হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।
এই অনন্য উদ্যোগ সফল হওয়ায় গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। আমেদাবাদের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) বেদ প্রকাশ এটিকে ভারতীয় রেলের জন্য অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে তিনি জানান, ২০৯০১ মুম্বই সেন্ট্রাল-গান্ধীনগর ক্যাপিটাল বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের এই ঐতিহাসিক পরিষেবা দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা ও রেল যোগাযোগে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।



