চলতি সপ্তাহেই বড় চমক! বাংলাদেশ ছাড়ার পর প্রথমবার ভারতে জনসমক্ষে আসছেন শেখ হাসিনা

সবদিক নিউজ:ওপার বাংলায় গণঅভ্যুত্থানের পর কেটে গিয়েছে প্রায় দু’বছর। আর এই গোটা সময়ে জনসমক্ষে দেখা যায়নি বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে (Sheikh Hasina)। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের জেরে বাংলাদেশে (Bangladesh) রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থির হয়ে ওঠার পর তিনি দেশ ছেড়ে ভারতে চলে আসেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে দীর্ঘদিন তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তবে এবার সেই নীরবতার অবসান হতে চলেছে। জানা গিয়েছে, আগামী ৫ আগস্ট নয়াদিল্লির (New Delhi) স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়ার উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন শেখ হাসিনা। সেখানেই তিনি বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি, নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দেশে ফেরার ইচ্ছা নিয়ে বক্তব্য রাখতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে। অনুষ্ঠানের সময়সূচি অনুযায়ী, এটি সন্ধ্যা ৬ টা থেকে সাড়ে ৭ টা পর্যন্ত চলবে এবং ক্লাবের সামাজিক মাধ্যমেও সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
বাংলাদেশ ছাড়ার পর প্রথমবার ভারতে জনসমক্ষে আসছেন শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina):
এই অনুষ্ঠানটি এমন এক দিনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যার সঙ্গে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জড়িয়ে রয়েছে। কারণ ঠিক দু’বছর আগে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তাঁকে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। সেই সময় দেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাঁর প্রাণনাশের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল বলেই নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে গোপন স্থানে রাখা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে জনসমক্ষে না এলেও বিভিন্ন সময়ে তাঁর বার্তা সামনে এসেছে। এবার প্রথমবার প্রকাশ্য মঞ্চে এসে তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে (Sheikh Hasina)।
অক্টোবর না নভেম্বর, আসলে কবে থেকে বর্ধিত DA পাবেন সরকারি কর্মচারীরা? জরুরি খবর জেনে নিন
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। গণহত্যা-সহ বিভিন্ন মামলায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায়ও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে সরাসরি গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হবে। তাঁর বক্তব্য, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনও ব্যক্তিকে জামিন দেওয়ার নজির নেই, তাই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হবে না। যদিও শেখ হাসিনা নিজে আগেই জানিয়েছিলেন, তিনি আত্মসমর্পণ করতেও প্রস্তুত, কিন্তু তাঁর একমাত্র ইচ্ছা নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার। তবে বর্তমান প্রশাসনের অবস্থান সেই সম্ভাবনাকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে।
এর আগে শেখ হাসিনা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই তিনি বাংলাদেশে ফিরতে চান। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দিল্লির এই অনুষ্ঠান সেই পরিকল্পনার দিকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তিনি দেশে ফেরার সম্ভাব্য রূপরেখা বা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কোনও বার্তা দেন কি না, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসন ইতিমধ্যেই ভারত সরকারের কাছে তাঁকে প্রত্যর্পণের আবেদন জানিয়েছে। ফলে তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়ে কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক জটিলতা আরও বেড়েছে। ঠিক কবে এবং কীভাবে তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অমীমাংসিত।

ধীরে ধীরে স্বাদ হারাবে ইলিশ, কোন সময়ের ইলিশ হয় সবথেকে টেস্টি?
এই অনুষ্ঠানে শুধু শেখ হাসিনাই (Sheikh Hasina) নন, তাঁর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ও উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরি নওফেল এবং জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক শাকিব আল হাসানের মতো কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিরও সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও তাঁরা বক্তব্য রাখবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সব মিলিয়ে, দুই বছর পর শেখ হাসিনার প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান নয়, বরং বাংলাদেশ ও উপমহাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে। তাঁর বক্তব্যে দেশে ফেরার পরিকল্পনা বা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে কোনও নতুন ইঙ্গিত মিলবে কি না, সেদিকেই এখন সকলের নজর।




