0%

তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ বিতর্কে নতুন মোড়, ইডিকে জবাব দিতে বলল সুপ্রিম কোর্ট

বাংলা হান্ট ডেস্ক : তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত মামলায় সোমবার সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ মোড়। দলের দৈনন্দিন সাংগঠনিক খরচ চালাতে প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণে থাকা অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ ব্যবহারের অনুমতি চাইলেও, এখনই কোনও অন্তর্বর্তী স্বস্তি দেয়নি সুপ্রিমকোর্ট (Supreme Court)। এই বিষয়ে ইডির থেকে বিস্তারিত অবস্থান জানতে চেয়েছে বিচারপতি এম এম সুন্দরেশের বেঞ্চ।

তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট

এদিন সুপ্রিমকোর্টের শুনানিতে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন যে, অ্যাকাউন্টে বিধিনিষেধ জারি থাকায় দলের নিয়মিত প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। কর্মীদের বেতন দেওয়া-সহ একাধিক প্রয়োজনীয় খরচ মেটানো সম্ভব হচ্ছে না বলেও তিনি দাবি করেন।

তবে বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ স্পষ্ট করে দেন, এই মুহূর্তে আদালত মূল মামলার অভিযোগ নিয়ে কোনও মন্তব্য করছে না। আপাতত শুধুমাত্র অন্তর্বর্তীকালীন আবেদনই বিবেচনাধীন। এরপর ইডির পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল এস. ভি. রাজু। তাঁর দাবি, তৃণমূলের সব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়নি এবং এখনও নিয়মিত আর্থিক লেনদেন হচ্ছে।

এই বক্তব্যের পাল্টা জবাবে কপিল সিব্বল আদালতেই বলেন, “একটি লেনদেনের প্রমাণ দেখান।” এই বিতর্কের পর আদালত ইডিকে লিখিতভাবে তাদের অবস্থান জানাতে নির্দেশ দেয়। আগামী সপ্তাহের মঙ্গলবার মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

প্রসঙ্গত, কলকাতা হাই কোর্টে দোলা সেন ও ডেরেক ও’ব্রায়েনের দায়ের করা মামলার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার যুক্তি ছিল, তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের কোনও নথি আদালতে পেশ করা হয়নি। তাদের বক্তব্য, দলীয় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা যেহেতু ওই কমিটির হাতে, তাই অনুমোদনের প্রমাণ ছাড়া এমন মামলা দায়েরের আইনি ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।

Supreme Court asks ED to respond in Trinamool Congress account freeze controversy

আরও পড়ুন : কালীঘাট ছেড়ে কাকলিদের টিম? মমতাপন্থী ২ সাংসদের শিবির বদলের জল্পনায় তোলপাড়

অন্যদিকে, তৃণমূলের বক্তব্য, দলীয় কর্মকাণ্ড সচল রাখতে প্রয়োজনীয় আর্থিক লেনদেনের সুযোগ পাওয়া জরুরি। সেই কারণেই অন্তর্বর্তী স্বস্তির আবেদন করা হয়েছে।‌ এখন সুপ্রিম কোর্টে ইডির জবাব জমা পড়ার পরই স্পষ্ট হবে, প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে থাকা অ্যাকাউন্ট থেকে সীমিত পরিসরে অর্থ ব্যবহারের অনুমতি মিলবে কি না।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker