0%

‘সবাই মিলে বাঁচিয়েছে’, ব্রিজভূষণ ‘নির্দোষ’ রায়ে হতাশ ভিনেশ, বৃহত্তর লড়াইয়ের পথে কুস্তিগিররা

ছয় মহিলা কুস্তিগিরের দায়ের করা যৌন হেনস্তার মামলায় বেকসুর খালাস করে দেওয়া হয়েছে ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি ও বিজেপি নেতা ব্রিজভূষণ শরণ সিংকে। আদালতের রায়, তাঁর বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ মেলেনি। এহেন সিদ্ধান্তে স্বভাবতই ক্ষুব্ধ ভিনেশ ফোগাট। অভিযোগকারীদের মধ্যে তিনিও অন্যতম। ভিনেশ বলছেন, ব্রিজভূষণকে বাঁচাতে সবাই প্রাণপণ চেষ্টা করেছে। কিন্তু কুস্তিগিররা তাতেও ভয় পাবেন না। লড়াই চালিয়ে যাবেন আগামী দিনে।

২০২৩ সালে ভারতের কুস্তি ফেডারেশনের তৎকালীন সভাপতি ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ আনেন ৬ মহিলা কুস্তিগির। লাল কেল্লার সামনে বসে বিচার চেয়ে ধরনা শুরু করেন দেশের প্রথম সারির কুস্তিগিররা। এমনকী ধরনাস্থল থেকেই অলিম্পিকের প্রস্তুতি শুরু করেন ভিনেশ। ফাইনালেও ওঠেন। চলতি বছর মে মাসে ভিনেশ ঘোষণা করেন, যে ৬ জন মহিলা কুস্তিগির ব্রিজভূষণের যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে তিনি নিজেও রয়েছেন। এই প্রথমবার ৬ জন নির্যাতিতার মধ্যে কোনও একজনের পরিচয় প্রকাশ্যে আসে।

প্রকাশ্যে এমন ঘোষণার পরেও প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ পায়নি আদালত। সোমবার দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট অশ্বিনী পানওয়ার জানান, মামলায় যে প্রমাণ ও সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে, তা দিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা যায়নি। তাই ব্রিজভূষণ ও বিনোদ তোমর, দু’জনকেই বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বরেই স্বস্তির সুরে ব্রিজভূষণ বলেন, “আদালত আমাকে খালাস দিয়েছে। আমি সেদিন বলেছিলাম, দোষী প্রমাণিত হলে আমি আত্মহত্যা করব। আজ খালাস পেয়ে আমি মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছি।”

আদালতের রায় ঘোষণার পর ভিনেশ সোশাল মিডিয়ায় দীর্ঘ বার্তা দিয়েছেন। জানিয়েছেন, “অনেক সাহস করে মহিলা কুস্তিগিররা শাসক দলের এক শক্তিশালী নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিলেন। কিন্তু প্রথম থেকেই গোটা সিস্টেম, সরকার, প্রতিষ্ঠান-চেষ্টা করেছে ব্রিজভূষণকে বাঁচাতে। তবে আমরা ইতিমধ্যেই এই রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করব।” ভিনেশ বলছেন, বিচারব্যবস্থার উপরে এখনও আস্থা রেখেছেন তাঁরা।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker