0%

Cashew wine, popular drink of Goa will be produced at West Bengal

কাজুতে কর্মসংস্থানের নয়া দিশা জঙ্গলমহলে! এবার রাজ্যে বসেই মিলবে গোয়ার জনপ্রিয় পানীয় ফেনির স্বাদ। মাটিতে পড়ে থেকে ফল নষ্ট করা নয়, সেই ফল ও বীজ কুড়িয়ে তা থেকে নতুন ধরনের পানীয় প্রস্তুতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু ফেনি নয়, উরাক নামের পানীয়ও তৈরি হবে এখানে। এভাবেই কাজুর হাত ধরে কাজুর ফলনকে কাজে লাগিয়ে ঝাড়গ্রাম ও আশেপাশের জেলাগুলিতে নতুন করে অর্থনীতিতে জোয়ার আসতে চলেছে।

‘ক্যাশিও ওয়াইন’ বা কাজু থেকে তৈরি ফেনি ও উরাক গোয়ার জনপ্রিয় পানীয়। ২০০৯ সালে এই পানীয় জিআই তকমাও পেয়েছে। এবার কাজু ফলের এই সুস্বাদু ও সস্তার পানীয়ের কারখানা ঝাড়গ্রামে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। শুধু পড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়া কাজুর ফল কাজে লাগানোই নয়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের রাস্তা মসৃণ হবে বলেও দাবি ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউয়ের। উৎপাদিত পানীয়ের চাহিদা কেমন হয়, তা দেখে পরে দেশ-বিদেশের বাজারেও তা রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

কাজু থেকে তৈরি আরেক পানীয় উরাক, ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলমহলে বিস্তীর্ণ এলাকায় কাজুবাগান থাকলেও এতদিন কাজুর বীজ সংগ্রহের পর বাকি ফল কার্যত নষ্ট হয়ে যায়। লালমাটিতে কাজুর ফলন ভালো। ঝাড়গ্রাম শহর সংলগ্ন রাধানগর, কন্যাডোবা থেকে শুরু করে গড়শালবনি, শালবনি, নেদাবহড়া, ঘৃতখাম-সহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে কাজুবাগান। নয়াগ্রাম, সাঁকরাইল, জামবনি, লালগড়, গোপীবল্লভপুরেও রয়েছে বিস্তীর্ণ কাজুবাগান। সাধারণত মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে গাছে ফল ধরতে শুরু করে। এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে ফল পাকতে শুরু করে, যা মে-জুন পর্যন্ত চলে।

বাগান থেকে কাজু সংগ্রহের পর ফল থেকে বীজ আলাদা করে নেওয়া হয়। সেই বীজ থেকেই তৈরি হয় কাজুবাদাম। ঝাড়গ্রামের অধিকাংশ কাজুবাগানের বীজ চলে যায় পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির বিভিন্ন কারখানায়। কিন্তু বীজ আলাদা করার পর পড়ে থাকা ফলের অধিকাংশই নষ্ট হয়ে যায়। অনেকক্ষেত্রে সেই ফল খেয়ে ফেলে হাতি ও গবাদি পশুও। সেই অপচয় রুখতেই কাজুর ফল থেকে পানীয় তৈরির কারখানা তৈরির ভাবনা। ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ বলেন, ‘‘এই অঞ্চলে প্রচুর কাজুবাগান রয়েছে। কাজুর বীজ ছাড়া পুরো ফলটাই নষ্ট হয়ে যায়। সেই ফল যাতে কাজে লাগে, তার জন্য গোয়ার ক্যাশিও ওয়াইনের আদলে এখানে একটি কারখানা তৈরির কথা ভাবা হচ্ছে। বাজারে এর চাহিদা রয়েছে। প্রয়োজন হলে রপ্তানিও করা যাবে। এর ফলে স্থানীয় স্তরে ছোট শিল্পের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।’’

কাজুর এই ফল থেকেই তৈরি হবে গোয়ার জনপ্রিয় পানীয় ফেনি, নিজস্ব ছবি

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রাম জেলায় কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে কাজুবাগান রয়েছে। একটি হিসাব অনুযায়ী, তিন একর জমির কাজুবাগান থেকে প্রায় ১২ কুইন্টাল কাজুর বীজ পাওয়া গেলেও সেখানে প্রায় ১০ থেকে ১২ টন কাজুর ফল নষ্ট হয়। শালবনির কাজুবাগানের মালিক শ্যামসুন্দর মাহাতো বলেন, ‘‘কাজুর বীজ তুলে নেওয়ার পর ফলটা পড়েই নষ্ট হয়। পাঁচ থেকে দশ টাকা কেজি দরেও যদি ওই ফল বিক্রি করা যায়, তাহলে বাগান মালিকদের বাড়তি আয় হবে। এখানে কাজুর ফল থেকে কারখানা হলে সেই অপচয়ও বন্ধ হবে।’’ অন্যদিকে, শিল্প গড়ে উঠলে স্থানীয় যুবকদের বাইরে গিয়ে কাজের প্রবণতাও কমবে বলে আশা করছেন বাসিন্দারা। নয়াগ্রাম এলাকার মানুষের বক্তব্য, এখানে চাষের কাজ ছাড়া তেমন কাজের সুযোগ নেই। এলাকার বহু যুবক গুজরাট, মুম্বই-সহ বিভিন্ন জায়গায় পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। এলাকায় কারখানা তৈরি হলে তাঁদের আর বাইরে গিয়ে কাজ করতে হবে না।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker