NCPI: ‘বিজেপির সঙ্গে যেতে পারব না’, বড় ঘোষণা আবু তাহেরদের, কী হবে NCPI-এর ভবিষ্যৎ?

সৌগতর সঙ্গে আবু তাহের ও খলিলুর রহমানImage Credit: Tv9 Bangla
নয়া দিল্লি: ‘এনসিপিআই (NCPI)-তে থাকলেও NDA-তে নেই। বিজেপির সঙ্গে কোনও ভাবেই যেতে পারব না।’ বড় ঘোষণা করে দিলেন আবু তাহের (Abu Taher)। একই মন্তব্য করেছেন খলিলুর রহমানও (Khalilur Rahaman)। তৃণমূল থেকে বেরিয়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন তিনি। তবে, গত কয়েকদিন ধরেই তাঁকে এবং আরও দুই সাংসদ খলিলুর রহমান ও ইউসুফ পাঠানকে নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে এমনও চর্চা চলছে যে, তৃণমূলে ফিরতে পারেন তিন সাংসদ। এরই মধ্যে আবু তাহেরদের এই মন্তব্য যেমন জল্পনা উস্কে দিয়েছে, তেমনই বেশ কয়েকটি প্রশ্নও তুলে দিচ্ছে।
কী কী প্রশ্ন উঠছে?
তৃণমূল থেকে বেরিয়ে ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই দিল্লিতে ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে এনসিপিআই সাংসদ হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন করেছেন। শুধু তাই নয়, এনডিএ-র শরিক হতে চেয়েও আবেদন করা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্তের কথা জানাননি স্পিকার। ওই ২০ জন সাংসদের তালিকায় রয়েছেন আবু তাহের, খলিলুরও। যেখানে প্রথম থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, এনডিএ-র শরিক হবেন তাঁরা, তাহলে এখন কেন এনডিএ-তে থাকতে চাইছেন না? হঠাৎ দ্বিমত কেন?
দ্বিতীয় প্রশ্ন হল, তৃণমূল থেকে সরে আসার মুহূর্তে দেখা গিয়েছিল একাধিকবার ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এনসিপিআই সাংসদরা। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও বৈঠক করেছিলেন। আবু তাহের, খালিলুর রহমানরাও বৈঠক করেছিলেন। অথচ এখন এনডিএ থেকে সরে আসতে চাইছেন কেন?
এরই মধ্যে আরও একটা জল্পনা চলছে। এনসিপিআই সরাসরি মিশে যেতে পারে বিজেপিতে। রাজনৈতিক মহলের মতে, কোথাও কি বিজেপি সাংসদের তকমাতেই আপত্তি তাঁদের?
কী বলছেন আবু তাহের?
আবু তাহের বলেন, “আমাদের নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সংখ্যালঘু যে সাংসদরা রয়েছি সংসদে, আমরা এনডিএ বৈঠকে যোগ দিইনি। আমাদের অনেক অসুবিধা আছে। আমরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে এসেছি। তাই সরাসরি বিজেপির সঙ্গে যাওয়াতে অনেক অসুবিধা রয়েছে। এনডিএ-তে যাওয়ার ক্ষেত্রেও বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আমরা এনডিএ বৈঠকে যাইনি। আর যাবও না। এনসিপিআই-তে রয়েছে।” তারপরেও রাজনৈতিক মহলে একটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, এনসিপিআই এনডিএ শরিক হতে চাইছে, প্রধানমন্ত্রী নিজে শরিক দল হিসেবে পরিচয় করিয়েছেন, অথচ সেই এনসিপিআই-এর সদস্য হয়েও কীভাবে আবু তাহেররা এনডিএ থেকে দূরে থাকবেন? আগামী দিনে কী হতে চলেছে সমীকরণ, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।
গত সপ্তাহেই প্রথমবার শরিকদল হিসেবে এনডিএ বৈঠকে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন কাকলি, শতাব্দীরা। ওই বৈঠকে তাঁদের শরিক দল হিসেবে পরিচয়ও করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু, বৈঠকে তিন মুসলিম সাংসদের অনুপস্থিতি ঘিরে জল্পনা শুরু হয়। সূত্র মারফত জানা যায়, এনসিপিআইতে যোগ দিলেও বিজেপিতে মিশে যাবেন না খলিলুর, আবু তাহের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজেদের এলাকায় তাঁদের রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেখানকার যা জনবিন্যাস সেই অনুপাতে রাজনৈতিক অবস্থান ঠিক করবেন বলে মনে করা হচ্ছিল।
এদিকে, সংসদ চত্বরে সৌগত রায়ের সঙ্গে খলিলুর ও আবু তাহেরের আলাপচারিতা ঘিরে জল্পনা বাড়ে। তার উপর সৌগত দাবি করেন, বেশ কয়েকজন সাংসদ তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সেই তালিকায় তিন সংখ্যালঘু সাংসদও রয়েছেন। তিনি দাবি করেছিলেন, তৃণমূল থেকে এনসিপিআই, তারপর এনডিএ, এটা অনেকেরই ভাল লাগছে না। অর্থাৎ এনডিএ-তে শরিক হওয়ার বিষয়টি অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না বলে দাবি করেন তিনি। এবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন আবু তাহের ও খলিলুর রহমান।


