পাকিস্তানে উপস্থিত ‘ধুরন্ধর’? অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজের গুলিতে খতম অন্তত ৩০ লস্কর সদস্য

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তানে (Pakistan) একের পর এক লস্কর-ই-তৈবার (Lashkar-e-Taiba) সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনটির দাবি, গত কয়েক বছরে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজদের হামলায় অন্তত ৩০ জনের বেশি লস্কর সদস্য নিহত হয়েছে। ঘটনাগুলি ঘটেছে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (Pakistan-occupied Kashmir) একাধিক এলাকায়। পেশোয়ার, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি, রাওয়ালকোট এবং মুজাফফরাবাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। কারা এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে একের পর এক টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং জঙ্গি সংগঠনগুলির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
পাকিস্তানে (Pakistan) অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজের গুলিতে খতম অন্তত ৩০ লস্কর সদস্য:
এই বিতর্ক আরও জোরদার হয়েছে লস্করের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত জঙ্গি রিজওয়ান হানিফের একটি ভাইরাল ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে হানিফ দাবি করেছে, গত তিন থেকে চার বছরে তাদের সংগঠনের বহু সদস্য রহস্যজনকভাবে নিহত হয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এসব মৃত্যু কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে সংগঠনের সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। যদিও তার এই দাবির স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে যাচাই এখনও সম্ভব হয়নি। তবে ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর পাকিস্তানের (Pakistan) বিভিন্ন মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের রক্তচক্ষু পাত্তা না দিয়ে ‘বন্ধু’ রাশিয়া থেকে বিপুল তেল আমদানি ভারতের! অবাক করবে পরিসংখ্যান
লস্কর-ই-তৈবা দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত। আল-কায়েদা ও তালিবানের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ভারতে একাধিক সন্ত্রাসবাদী হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২০০৫ সালে রাষ্ট্রসংঘ সংগঠনটির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ২০০৮ সালের মুম্বই সন্ত্রাসবাদী হামলায় ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং সেই হামলায় লস্করের ভূমিকার অভিযোগ আন্তর্জাতিক স্তরেও গুরুত্ব পেয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রথমবার প্রকাশ্যে এত সংখ্যক সদস্যের হত্যার দাবি সামনে আসায় ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একটি নিরাপত্তা ইস্যু নয়, বরং জঙ্গি নেটওয়ার্কের বর্তমান অবস্থাও তুলে ধরছে।
ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলির মতে, ভিডিওতে দেখা ব্যক্তি রিজওয়ান হানিফ লস্করের একজন শীর্ষস্থানীয় সদস্য এবং তিনি ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গিদের তালিকায় রয়েছেন। ভিডিওতে হানিফ অভিযোগ করেছে, এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলির ভূমিকা রয়েছে। তবে ভারত সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। ফলে এই দাবি এখনও একতরফা অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে এবং এর পক্ষে কোনও স্বাধীন প্রমাণ সামনে আসেনি।

আরও পড়ুন: ক্রমশ বাড়ছে চাপ! কেন ঝুঁকির সম্মুখীন টিম ইন্ডিয়ার হেড কোচ গৌতম গম্ভীরের চাকরি?
ভিডিওটি আরও একটি কারণে বিতর্কে এসেছে। সেখানে রিজওয়ান হানিফকে হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে আপত্তিকর ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছে, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানে (Pakistan) ধারাবাহিকভাবে জঙ্গি নেতাদের উপর হামলার ঘটনাগুলি কে বা কারা ঘটাচ্ছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কোনও সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি এবং পাকিস্তানের প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাগুলির প্রকৃত কারণ এবং নেপথ্যের শক্তি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে হলে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আরও তথ্য প্রকাশ হওয়া জরুরি।




