সিন্ধু চুক্তি নিয়ে আইনি লড়াইয়ে নাজেহাল পাকিস্তান! ভারতের উকিলের খরচও দিতে হচ্ছে ইসলামাবাদকে

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারত ও পাকিস্তানের (Pakistan) মধ্যে ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তি দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের অন্যতম বড় ইস্যু। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ এই বিরোধকে এক নতুন পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে চলা মামলাকে ঘিরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে পাকিস্তানকে শুধু নিজের নয়, ভারতের অংশের আইনি খরচও বহন করতে হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যেই প্রায় ৬ লক্ষ মার্কিন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে ইসলামাবাদকে। মামলার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে এই অঙ্ক আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে, ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে এই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় দেওয়া কোনও রায়কে তারা বাধ্যতামূলক বলে মনে করছে না।
সিন্ধু চুক্তি নিয়ে আইনি লড়াইয়ে নাজেহাল পাকিস্তান (Pakistan)!
এই বিতর্কের পেছনে সাম্প্রতিক একটি বড় কারণ হল ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সংঘটিত জঙ্গি হামলা। ওই হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যাঁদের মধ্যে পর্যটকরাও ছিলেন। ঘটনার পর ভারত সরাসরি পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি সংগঠনগুলির দিকে আঙুল তোলে। তার পরিপ্রেক্ষিতে নয়াদিল্লি সিন্ধু জলচুক্তির কার্যকারিতা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কেন্দ্রের যুক্তি ছিল, সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দেওয়া এবং একই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির সুবিধা ভোগ করা একসঙ্গে চলতে পারে না। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই পাকিস্তানে জলসম্পদ ও কৃষি সংক্রান্ত উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে (Pakistan)।
আরও পড়ুন: ৩ টি শর্তের মধ্যে একটি মানলেই অনশন ভাঙবেন সোনম ওয়াংচুক! হাসপাতাল থেকে লিখলেন খোলা চিঠি
বর্তমান আইনি জটিলতার সূত্র অবশ্য আরও পুরনো। ২০১০ সালে প্রথমবার নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত পার্মানেন্ট কোর্ট অফ আরবিট্রেশনে পাকিস্তান অভিযোগ জানায় যে, কিষাণগঙ্গা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সিন্ধু জলচুক্তির কিছু শর্ত লঙ্ঘন করছে। পরে রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকেও একই অভিযোগের আওতায় আনা হয়। ২০১৬ এবং ২০২৩ সালেও ইসলামাবাদ এই ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়ার দ্বারস্থ হয়। পাকিস্তানের (Pakistan) দাবি, এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে ভারতের জল ব্যবস্থাপনা চুক্তির সীমার বাইরে চলে যাচ্ছে। তবে ভারত বারবার বলেছে, প্রকল্পগুলি আন্তর্জাতিক চুক্তির কাঠামোর মধ্যেই তৈরি করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন।
মামলাটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে আর্থিক দিকটি ঘিরে। আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের নিয়ম অনুযায়ী, বিচারপ্রক্রিয়ার ব্যয় সাধারণত দুই পক্ষকে সমানভাবে বহন করতে হয়। কিন্তু কোনও এক পক্ষ যদি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ না করে, তাহলে অপর পক্ষকেই পুরো খরচ বহন করতে হয়। এই কারণেই ভারতের অংশের খরচও পাকিস্তানের উপর বর্তেছে বলে খবর। ফলে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে ভারত মামলার শুনানিতে অংশ না নিয়েও আর্থিক বোঝা এড়িয়ে গেছে, অথচ পাকিস্তানকে একাই পুরো ব্যয় মেটাতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: একী কাণ্ড! বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ট্রফি দিয়ে পোডিয়াম থেকে নামলেন না ট্রাম্প, হলেন বিদ্রুপের সম্মুখীন
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ইসলামাবাদ এখন কার্যত এক কঠিন ফাঁদে পড়েছে। একদিকে মামলা থেকে সরে এলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে মামলা চালিয়ে গেলে বিপুল অর্থব্যয়ের চাপ বাড়ছে। ইতিমধ্যেই অর্থনৈতিক সঙ্কটে জর্জরিত পাকিস্তানের জন্য এই পরিস্থিতি যথেষ্ট অস্বস্তিকর। অন্যদিকে ভারত নিজের অবস্থানে অনড় থেকে জানিয়েছে, সিন্ধু জলচুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট বিরোধ নিয়ে তাদের সার্বভৌম সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। ফলে জলবণ্টনকে ঘিরে দুই দেশের এই দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ আগামী দিনে আরও জটিল আকার নিতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা (Pakistan)।




