অনবদ্য হ্যাটট্রিক মনবীরের, দুর্বল সাউথ ইউনাইটেডকে গোলের মালা পরিয়ে নকআউটে মোহনবাগান

মোহনবাগান: ৮ (মনবীর ৩, সুহেল ২, আলবার্তো, ভেকে)
সাউথ ইউনাইটেড: ০
ডুরান্ডে স্বপ্নের ফর্মে মোহনবাগান। প্রথম ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলকে হারানোর পর এবার দুর্বল সাউথ ইউনাইটেডকে ৮ গোলের মালা পরাল সবুজ-মেরুন শিবির। দিন দুই আগে সিআইএসএফকে ৮ গোল দিয়েছিল ইস্টবেঙ্গলও। পিছিয়ে রইল না মোহনবাগানও। অনবদ্য হ্যাটট্রিক করলেন মনবীর সিং। স্ট্রাইকার হিসাবে তিনি যে আগামী দিনে সফল হতে পারেন, সেটা আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন পাঞ্জাব তনয়। এই একপেশে জয়ের ফলে ডুরান্ডের নক-আউটে নিশ্চিত হয়ে গেল সবুজ-মেরুন শিবির।
প্রতিপক্ষ সাউথ ইউনাইটেড যে শক্তিশালী মোহনবাগানকে সেভাবে বেগ দিতে পারবে না, সেটা ম্যাচের আগে থেকেই জানা ছিল। তবে ডুরান্ড কাপের এই ম্যাচ যে এতটা একপেশে হয়ে যাবে, সেটা কেউই প্রত্যাশা করেননি। ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকে যেভাবে বেঙ্গালুরুর ক্লাবটি সবুজ-মেরুন শিবিরের সামনে কার্যত আত্মসমর্পণ করে গেল, সেটা একপ্রকার অভাবনীয়।
ম্যাচের চার মিনিটেই প্রথম গোলটি পায় মোহনবাগান। গোলটি আসে মনবীর সিংয়ের পা থেকে। আগের ম্যাচে গোল করা সাহাল আবদুল সামাদ নিখুঁতভাবে বল বাড়িয়ে দেন মনবীরের পথে। এক টাচে বল নিয়ন্ত্রণে এনে ঠান্ডা মাথায় জালে পাঠিয়ে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন তিনি। কয়েক মিনিট বাদেই সেট-পিস থেকে ফের আঘাত হানে সবুজ-মেরুন শিবির। কর্নার কিক থেকে ভেসে আসা বল নিখুঁত হেডে জালে জড়িয়ে দেন আলবার্তো রডরিগেজ। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মেরিনার্স। এরপর পালা সবুজ-মেরুনের নতুন সদস্য রাহুল ভেকের। কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে দুর্দান্ত হেডে জাল কাঁপিয়ে দেন তিনিও। সবুজ-মেরুন জার্সিতে এটি ভেকের প্রথম গোল, আর মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে মোহনবাগান। ২২ মিনিটে সাহাল আবদুল সামাদের আরও একটি নিখুঁত অ্যাসিস্ট থেকে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ফেললেন মনবীর সিং। কেরলের এই মিডফিল্ডার অসাধারণভাবে বল বাড়িয়ে দেন মনবীরের দিকে। সাউথ ইউনাইটেডের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন ভারতীয় ফরোয়ার্ড। এরপরও একের পর এক সুযোগ পেয়েছে মোহনবাগান। সাউথ ইউনাইটেডের সৌভাগ্য যে প্রথমার্ধে তারা আরও গোল খায়নি।
দ্বিতীয়ার্ধেও সেই একই ছবির পুনরাবৃত্তি। ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও আক্রমণের ধার একটুও কমায়নি মোহনবাগান। ৬০ মিনিটে অনিরুদ্ধ থাপার নেওয়া কর্নার থেকে ভেসে আসা নিখুঁত ক্রসে দুর্দান্ত ডাইভিং হেডার দিয়ে হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেন মনবীর। ম্যাচের ষষ্ঠ গোলটি এল ৬৯ মিনিটে। এবারে খানিকটা দুর্ভাগ্যজনকভাবে আত্মঘাতী গোল করে ফেললেন সাউথ ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার নোয়েল। এরপরও আক্রমণের ঝাঁজ কমেনি সবুজ-মেরুনের। শেষবেলায় কামাল দেখালেন সুহেল ভাট। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে জোড়া গোল করলেন কাশ্মীরী স্ট্রাইকার।
দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিরাট জয়ে মোহনবাগান নকআউটে জায়গা নিশ্চিত করে ফেলল। সবুজ-মেরুনের শীর্ষস্থানে শেষ করা নিশ্চিত। শুধু তাই নয়, এই পারফরম্যান্স আরও একবার বুঝিয়ে দিল ফের ট্রফি জিততে তৈরি সবুজ-মেরুন শিবির। তবে পর পর কলকাতার দুই ক্লাব যেভাবে ৮ গোলের ব্যবধানে জিতল-তাতে ডুরান্ডে খেলার মান ফের প্রশ্নের মুখে।
শেয়ার
লিংক



